প্রতিপক্ষ



জলপান শব্দের শিকারি: আল মাহমুদ

এক

আল মাহমুদ পরিণত বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। তবুও পরিচিত বা প্রিয় কারো মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করে। আল মাহমুদ ব্যতিক্রম নন। বহু বছর আগে, যখন তিনি অসুস্থ নন, তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। কলকাতা থেকে ফিরছিলাম। কলকাতা এয়ারপোর্টে তাঁর সঙ্গে দেখা। কবিদের বিস্তর কথা জমা থাকে যা কেবল কবিদের পরস্পরের সঙ্গেই উজাড় হয়। তাই হোল।

ঢাকায় উড়োজাহাজ নাক নীচু করে যখন নামছিলো, তখন হঠাৎ আমাকে বললেন, ‘এই শহরে ফরহাদ মজহারও বাস করেন’। একটু অপ্রস্তুত হয়েছিলাম। সামলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন বললেন? তাঁর উত্তর ছিল, কবিদের ভিড় ও মঞ্চ থেকে আমি সারাজীবন দূরে থেকেছি, কিন্তু কবি ও কবিতা নিয়ে তর্কবিতর্কে আমি ঠিক (আরো পড়ুন)

'বই বিক্রির দোকানদারি বাংলা একাডেমির কাজ নয়'

কেমন আছেন? বছর শেষে আবার শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা, জাতীয় জীবনে এই মেলার তাৎপর্য কী বলে?

জাতি হিসাবে আমরা কোন ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি নই, ফলে অমর একুশে বই মেলাও বিভক্ত, বিভাজিত ও নানা ভাবে খণ্ডিত রূপ নিয়ে হাজির হয়। তার তাৎপর্যও সেই প্রকার খণ্ডিত ও বিভাজিত মর্মের কথাই বলে। এটা এখনও একান্তই বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের অনুষ্ঠান হয়ে রয়েছে। সবার, সাধারণ মানুষের নয়।

আধুনিক বাংলা সাহিত্য যাদের হাতে তৈরি ও বিকশিত হয়েছিল তারা প্রধানত উচ্চ বর্ণের হিন্দু । তারা ইংরেজের তাঁবেদারি করে পৃষ্ঠপোষকতাও পেয়েছে। এটা ব্রাহ্মণ বা হিন্দুর কোন দোষ কিম্বা গুণের বিচার নয়। এটা ইতিহাস। কিন্তু একালে এর আপদের দিক হচ্ছে উচ্চ বর্ণের হিন্দুর সাহিত্য ও সংস্কৃতির দ্বারা প্ (আরো পড়ুন)

কবি ফরহাদ মজহারের মোকাবেলা

বলতে বলতে প্রায় পাঁচ বছর বেরিয়ে গেল, তরুণ কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন। একটি সাহিত্য পত্রিকায় আংশিক বেরিয়েছিল। এখন পুরোটা শিমুল সালাহ্উদ্দিনের অনুমতি নিয়ে এখানে ছাপা হোল। ওপরের ভুমিকাটুকু শিমুল সালাহ্উদ্দিনের। আশা করি চিন্তার পাঠকদের ভাল লাগবে। [সম্পাদনা পরিষদ]

... ... ...

কবি ফরহাদ মজহার তাঁর চিন্তা ও কর্মের ভেতর দিয়ে ইতোমধ্যে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন। ১৯৪৭ সালে নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এ চিন্তকের যেমন আছে অনুসারীদল তেমনি আছে কট্টর নিন্দুকসমাজ। জীবনযাপন, কাজ, কাব্য, সঙ্গীত, নাটক, চিন্তাভাবনা, কৃষি, শিল্প, প্রকৃতি, ভাবান্দোলন, রাজনীতি সব মিলিয়েই তাঁর পক্ষে-বিপক্ষেও তর্ক, যুক্তি, ভর্ৎসনা চলে চা-খানায় ও অন্তর্জালে। নিজের সব (আরো পড়ুন)

আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার

'স্বাধীন দেশের নাগরিক হিশেবে কোলকাতা আর আমাদের কিছু দিতে পারবে না'

প্রশ্ন: ১৯৪৭-এর পর পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১-এর বাংলাদেশ এই পর্ব দুটি আপনার চিন্তার জগতকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে?

আহমদ ছফা: পাকিস্তান যখন হয় তখন আমি শিশু। পরবর্তী সময়েও পাকিস্তান আমার মনের ওপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমি ক্লাস থ্রি বা ফোরের ছাত্র ছিলাম। সে সময় বাংলা ভাষার দাবিতে আমিও মিছিলে গেছি এবং আমার এক ভাই একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনে মুসলিম লিগারদের হাতে মার খায়। তার থেকেই পাকিস্তানের কোনও প্রভাব আমার মনে কখনো কাজ করে নি। বরং আমার আকর্ষণ ছিল কোলকাতার প্রতি। ওখানকার পত্রপত্রিকা ও সাহিত্যের প্রতি আমার ছিল প্রবল টান। ‘নবজাতক’ নামে (আরো পড়ুন)

আহমদ ছফা এবং ব্যাক্তির মুক্তিতত্ত্ব

‘সকলে আমার মধ্যে আছে, আমি সকলের মধ্যে আছি।’ আহমদ ছফা

ব্যক্তির নাম, রাজনীতি এবং ইতিহাস নিয়ে আমি এখানে লিখব। আহমদ ছফার ওপর নয়। কিন্তু তার নাম আসবে। তাকে নজির হিশাবে নেবো। ছফা বেঁচে থাকলে তাকে নজির হিশাবে ব্যবহার করছি দেখলে সে বিলকুল খেপত। খিস্তিখেউড়ের অভ্যাস ছিল তার। কী বলত তার এক ঘণ্টার একটা ফিরিস্তি আমি এখনই দিতে পারি। তার ঘনিষ্ঠজনরা একা থাকলে এই আনন্দটি সে পুরোমাত্রায় উপভোগ করত। তবে সত্যি যে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের ধোপদুরস্ত করে দেবার চর্চা করে সে নিজেকে প্রকট প্রতিকূলতার মধ্যে প্রকৃতিস্থ রাখার চেষ্টা করত। আগে কার সামনে কী বলত খুব একটা বাছবিচার করত না। কিন্তু এক সময় সে নিজেই বুঝত তুমুল অট্টহাসি ও অবিনাশী মশকরায় ছাদ ফাটিয়ে দেবার (আরো পড়ুন)

সৈয়দ মর্তুজার ভাষাদর্শন

‘পরান পিরীতিখানি ভাবিলে নবীন’ 

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন শাখার পদাবলী সাধারণতঃ ধর্ম সম্পৃক্ত রচনা বলেই মনে করা হয়। মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও ডক্টর আহমদ শরীফ তাঁদের সম্পাদিত ‘‘মধ্যযুগের বাঙলা গীতিকবিতা” গ্রন্থের ক নম্বর পৃষ্ঠায় বলেন ‘‘এগুলো ধর্মমতবাদীর একাধারে সাধন সঙ্গীত, বোদন গীতি, ও ভজন”। আর ধর্ম তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিতদের কাছে পশ্চাদপদতার প্রতীক বিধায় পরিত্যাজ্য। একারণেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য আমাদের কাছে মধ্যযুগীয়(?) বলে অবহেলিত। এই অবহেলার মনোভাব সৃষ্টিতে কায়েমি পণ্ডিত সমাজ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাদের কারো কারো মতে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত অষ্টাদশ শতকে এই অঞ্চলে ইংরেজদ (আরো পড়ুন)