প্রতিপক্ষ



আতরওয়ালা

ষাট দশকের শেষের দিকে আমরা যখন কবিতা লিখে কিছুটা পরিচিতি অর্জন করেছি তখন ফরিদ উদ্দিন -এর নাম শুনি। তাঁর নাম প্রথম কানে এলো ব্যাপারটা এমন নয়। আমরা যারা আধা-মফস্বল আধা-গ্রাম থেকে শহরে পড়তে এসেছিলাম তাদের বাড়িতে কোথাও না কোথাও ‘মকছুদুল মোমেনীন’-এর পাশে ‘তাজকিরাতুল আউলিয়া’ শোভা পেতো। আউলিয়াদের গল্প যতোটা ঐ বাংলা অনুবাদে পড়েছি, তার চেয়ে গুরুজনদের মুখে ধর্মীয় কেচ্ছাকাহিনী হিশাবে শুনেছি। আমাদের অনেকের কৈশোর অলি-আউলিয়াদের গল্পে ভর্তি।

একই গল্প নানা দিক থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও চলতো। মুখে মুখে বলা গল্পগুলো আকর্ষণ করতো যে কোন গল্পের মতোই। কিন্তু বাংলা 'তাজকিরাতুল আউলিয়া' বা আউলিয়াদের স্মৃতিকথার বাংলা অনুবাদ খুব ভাল ছিল না, পড়তে (আরো পড়ুন)

ব্যক্তি বনাম রাষ্ট্রীয় খুন

চিন্তা পাঠচক্রের নির্ধারিত কর্মসূচীর মধ্যে ছবি দেখাকেও আমরা চিন্তাচর্চার মাধ্যম হিশাবে মানি। সম্প্রতি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ছবি দেখেছি আমরা । উদ্দেশ্য সিনেমায় তথাকথিত ‘ইসলামি সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে গ্লোবাল ওয়ার কিভাবে বিধৃত হচ্ছে এবং জনমতকে প্রভাবিত করছে সেটা বোঝা। আমাদের সেই ছবি দেখা জারি রয়েছে।

এবার ২ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে পোল্যান্ডের বিখ্যাত চিত্রনির্মাতা ক্রিস্টভ কিয়েস্লোস্কির, A short film about killing " ছবিটা সবাই মিলে দেখলাম। ছবিটা মূলত ১৯৮৮ সালে কিয়েস্লোস্কির দশটা টিভি সিরিজ " Dekalog " এর সমন্বয়ে নির্মিত পঞ্চম সিরিজের গল্প। নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৮৯ সালে। হযরত মুসার ( আ:) টেন কম্যান্ডমেন্ডস (আরো পড়ুন)

লালন: কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয়

এক

ফকির লালন শাহ তিরোধান করেছিলেন পহেলা কার্তিকে: বাংলা বছর ১২৯৭ আর ইংরেজি ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর। তিনি ঠিক কবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার কোন প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে যে লোকপ্রিয় তথ্য প্রচারিত সেটা হোল তিনি ১১৬ বছর বেঁচেছিলেন। এ নিয়ে পণ্ডিত মহলে কোন আপত্তি চোখে পড়ে নি। ফলে তিনি ১১৬ বছর বেঁচেছিলেন এই তথ্য কমবেশি প্রতিষ্ঠিত। সেই হিশাবে বলা হয় তাঁর জন্ম সাল ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ; বাংলা ১১৮১ সাল। 

নবদ্বীপ বা নদীয়ায় শ্রীচৈতন্য জন্মেছিলেন ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৬ ঈসায়ী সালে। তাঁর তিরোধান ঘটেছিল ১৪ জুন ১৪৩৪ সালে। তাহলে ফকির লালন শাহের আবির্ভাব ঘটেছিল চৈতন্যের তিরোধানের প্রায় ৩৪০ বছর পর। সম্প্রতিকালে আগ্রহ (আরো পড়ুন)

'ফাহরেনহাইট ৯/১১': সন্ত্রাস, বাণিজ্য ও কর্পোরেশান

মাইকেল মুরের ‘ফাহরেনহাইট নাইন ইলেভেন’ ছবির শুরুতে টুইন টাউয়ারে দ্বিতীয় প্লেনটা যখন আঘাত হানে, তখন ফ্লোরিডার একটা স্কুলে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে তার নিরাপত্তা বাহিনীর একজন লোক এসে, ‘নেশন ইজ আন্ডার অ্যাটেক’ বলে খবরটা দিলে, বুশ সাত মিনিট চুপচাপ বসে যে ভাবনাগুলো ভেবেছিলেন, সেই ভাবনার ভেতরেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের বীজ রোপিত হয়ে গিয়েছিল। সারা ছবির এই সাত মিনিট আমরা বলবো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সাত মিনিটে একবিংশ শতাব্দীর দুর্বিসহ ভবিষ্যৎ ইতিহাস রচিত হয়ে গিয়েছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম উপন্যাসের মতো প্রেসিডেন্ট বুশ এই সাত মিনিটে ভবিষ্যত পৃথিবী রচনা করে ফেলেন। কী অসাধারণ তার দক্ষতা ! তবে আমামদের বোঝাবুঝির সবটা কৃতি (আরো পড়ুন)

আনুবিবি

দূর থেকে ভেসে আসছে কোলাহল। কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যারাতি ক্রমশ রহস্যময় হয়ে উঠছে। আনুবিবির হাতে মেহেদি, সে ঘরে স্থির হয়ে বসে আছে, অন্য মেয়েরা কোলাহল শুনে দৌড়ে গেল উঠোনে। বরযাত্রী এসেছে।

আজ আনুবিবির বিয়ে, বরযাত্রী এসেছে; হাতের মেহেদি এখনো শুকোলো না।

শুকাবেই বা কিভাবে, এত কাহিনী, এত ব্যস্ততায় কনের হাত সাদা রয়ে গেল কেউ খেয়ালই করল না। পরে ওই পাড়ার অশীতিপর বৃদ্ধা এসে বলল, ওলো পোড়ামুখীর দল, মাইয়ার হাতে রং কই? আসলেই তো, রং কই।

ওইদিকে খবর চলে এসেছে বরযাত্রী রওনা দিয়েছে।

মেহেন্দি গাছের পাতা তোলা নেই, যা ছিল কিশোরী মেয়েরা বেটে দিয়ে দিয়েছে।

ওই পাড়ার ফুলসনের মা বলল, মর পোড়ামুখীর দল। বিয়া কি তোগোর হচ্ছে রে? ধামড়ি মাগী গুলার রসের অভা (আরো পড়ুন)

‘জিরো ডার্ক থার্টি’: অর্ধ-সত্য কিম্বা মার্কিন প্রপাগাণ্ডা সিনেমা

‘জিরো ডার্ক থার্টি’ ছবির প্রথম দিকে নির্যাতন সেলে সি.আই.এ.-এর একজন সদস্য ড্যান আল কায়দা বাহিনীর একজন কয়েদী আম্মারকে একটা সন্ত্রাসী আক্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলো, উত্তরে ‘রবিবার’ ছাড়া ড্যান কোন উত্তর পেলো না। তখন ড্যান তাকে বলে, ‘তুমি কি জানো আংশিক বা অসম্পূর্ণ উত্তর, মিথ্যা হিসেবে ধরা হয় ?’ তারপরেই আম্মারকে আরও কঠিন শাস্তি হিসেবে ছোট একটা বাক্সে ভরে রাখা হয়। যেখানে কোন রকম নড়াচড়া করা যায়না।

কোন প্রশ্নের আংশিক উত্তরের অর্থ একটি মিথ্যের সমান। এই যদি যুক্তি হয় তাহলে আমরা কি বলতে পারিনা যে, একটি ঐতিহাসিক ছবি নির্মাণের সময় যদি সেই ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর কিছু সত্য শুধু প্রকাশিত হয় আর কিছু সত্য থাকে অপ্রকাশিত, তখন (আরো পড়ুন)