
।। ফরহাদ মজহার ।।
ব্রাউনের ধারণা হলো, মানবমুক্তি মানে কেবল রাষ্ট্র বদলানো, অর্থনীতি বদলানো কিংবা মানসিক চিকিৎসা নেওয়া না; মানুষের শরীরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কই বদলাতে হবে। এখনে ফকির লালন শাহ এবং নদীয়ার ভাবুকতার সঙ্গে ব্রাউনের সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তিনি একে ‘দমন বিলোপ’ এবং খ্রিস্টীয় ভাষায় ‘দেহের পুনরুত্থান’ বলেন মুক্ত শরীর হবে এমন শরীর যা খেলতে পারে, আনন্দ নিতে পারে, অন্য মানুষ ও দুনিয়ার সঙ্গে আগ্রাসনহীন মিলনে যেতে পারে; একই সঙ্গে মৃত্যু অস্বীকার না করে মৃত্যুকে ধারণ করতে পারে। তাঁর সবচেয়ে কঠিন কথাটি এখানেই: জীবন তখনই মওতের-তাগিদকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারে, যখন শরীর মরতে রাজি। এটি আত্মবিনাশের ডাক নয়। বরং ঠিক উলটা: মৃত্যুকে অস্বীকার করতে গিয়ে যে মৃত-জীবন বানাই, তা থেকে বের হওয়া।
Life Against Death, The Psychoanalytical Meaning of History by Norman O. Brown. Wesleyan University Press. 1959

বাংলা ভাষার পাঠকদের জন্য খুব দরকারি হতে পারে ভেবে নর্মান ও. ব্রাউনের (Norman O. Brown) Life Against Death গ্রন্থটির একটি পাঠ আমর এখানে পেশ করছি। নরমান ও ব্রাউন আমাদের কাছে বিশেষ পরিচিত নন, তবে তিনি অনেকের কাছে ফ্রয়েডিয় ঘরানা চিন্তক হিশাবে পরিচিত। কিন্তু শুরুতেই ব্রাউনকে ‘ফ্রয়েডীয়” চিন্তক বললে ভুল হবে। তিনি আসলে ফ্রয়েডকে ইতিহাস, দেহ, ধর্ম, পুরাণ, পুঁজি, টাকা, সভ্যতা, মৃত্যু এবং মুক্তির প্রশ্নের মধ্যে এনে নতুন ভাবে পড়তে চেয়েছেন। সেটাই আসলে আমাদের তাঁর প্রতি বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট করেছে।
নরমান ও ব্রাউনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ Life Against Death: The Psychoanalytical Meaning of History । গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালে; আমরা যে কপিটি পেয়েছি সেটি ১৯৮৫ সালের দ্বিতীয় সংস্করণ, যেখানে ক্রিস্টোফার ল্যাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। বইটির গঠনও তাঁর প্রকল্প পরিষ্কার করে: “সমস্যা”, “এরোস”, “মৃত্যু”, “সাবলিমেশন”, “অ্যানালিটি নিয়ে অধ্যয়ন”, এবং শেষে “বের হওয়ার পথ”—“The Resurrection of the Body”।
আমরা ‘মওতের বিরুদ্ধে জীবন’-কে সাধারণ বই-পরিচিতি হিশাবে লিখব না। বরং একটি দীর্ঘ, ধারাবাহিক দার্শনিক পর্যালোচনার অন্তর্গত করব। অর্থাৎ ব্রাউনের উসকানিতে আমরা সাড়া দেব। তাই আমাদের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হবে: মানুষ কেন জীবিত থেকেও জীবনের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়? ব্রাউনের কাছে এই প্রশ্নই আসলে শেষ পর্যন্ত Life Against Death-এর আসল প্রশ্ন।
ব্রাউনকে পড়ব কোথা থেকে?
ব্রাউন ছিলেন ধ্রুপদী গ্রিক সাহিত্যের পণ্ডিত; তাঁর শুরুটা মনোবিশ্লেষণ দিয়ে না। তাঁর প্রথম দিককার কাজ Hermes the Thief এবং হেসিয়ডের Theogony নিয়ে। পরে রাজনীতি ও মার্কসবাদী ভাবনার সংকটের মধ্য দিয়ে তিনি ফ্রয়েডের দিকে যান। Life Against Death সেই মোড়ের ফল। পরে Love’s Body (1966), Closing Time (1973) এবং Apocalypse and/or Metamorphosis (1991)-এ তাঁর ভাষা ক্রমেই প্রচলিত একাডেমিক গদ্য থেকে সরে পুরাণ, কবিতা, ধর্মতত্ত্ব, মনোবিশ্লেষণ এবং দর্শনের এক মিশ্র ভাষায় চলে যায়। সে কারনেও তাঁর প্রতি আমাদের বিশেষ আগ্রহ। ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটি প্রেসও Life Against Death, Love’s Body এবং Apocalypse and/or Metamorphosis-কে তাঁর চিন্তার একটি ধারাবাহিক ত্রয়ী হিশাবে উল্লেখ করে। (Wesleyan University Press)
Love’s Body-র মুখবন্ধে ব্রাউন নিজেই বলেন, এই বই Life Against Death-এ শুরু করা যাত্রারই ধারাবাহিকতা; বিশেষ করে আগের বইয়ের শেষ অধ্যায় “The Resurrection of the Body” পরের বইয়ের রাস্তা খুলে দিয়েছিল। অর্থাৎ দুই বইকে আলাদা করে পড়লে ব্রাউনের প্রকল্প ঠিক ধরা যাবে না।
মওতের বিরুদ্ধে জীবন : মূল প্রশ্ন
বইয়ের নামের আমরা সরল অনুবাদ করেছি। ‘মওতের বিরুদ্ধে জীবন’। এতে আক্ষরিক অর্থ হয় বটে, কিন্তু ব্রাউনের যুক্তি অনেক জটিল। মানুষের মধ্যে জীবন-তাগিদ বা এরোস (Eros) আছে, আবার মৃত্যু-তাগিদও (death instinct/Thanatos) আছে। এই দুই বৈপরীত্যের মধ্যে মানুষকে বুঝব কিভাবে?
এরোস-কে (Eros) বাংলায় মানুষের মধ্যে জীবনের তাগিদ বললে মোটামুটি অনুবাদ হয়, তবে এটাকে শুধু ‘বেঁচে থাকার প্রবৃত্তি’ বললে ফ্রয়েড ও ব্রাউন—দুজনকেই ভুল বোঝার ভয় থাকে । কারণ, এতে অর্থ সংকুচিত হয়। এরোস হলো সেই তাগিদ যা জীবনকে ধরে রাখে, বিচ্ছিন্ন জিনিসকে যুক্ত করে, সম্পর্ক তৈরি করে, সংগঠিত করে এবং বৃহত্তর একতায় বাঁধতে চায়। যৌন তাগিদ এরোসের অংশ, কিন্তু এরোস শুধু যৌনতা নয়। বরং প্রেম, আকর্ষণ, প্রজনন, আত্মরক্ষা, অন্যের সঙ্গে বন্ধন, এমনকি বিচ্ছিন্ন জীবকেও বড় জীবন্ত গঠনের মধ্যে যুক্ত করার প্রবণতা—সবকিছুই এরোসের বিস্তৃত ক্ষেত্র। এর বিপরীতে মওতের তাগিদ (death instinct) জীবন্ত গঠনকে ভেঙে কম উত্তেজনা, জড়তা বা নির্জীব অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়। তাই বাংলায় এরোসকে ‘জীবন ও মিলনের তাগিদ (Eros)’ বলা ভাল। শুধু ‘জীবনের তাগিদ’ বললে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে—এরোসের কাজ শুধু জীবিত রাখা নয়, মিলন ঘটানো।
ব্রাউনের কাছে বিষয়টি আরও বিস্তৃত। তিনি এরোসকে মানুষের দেহ, কামনা, খেলা, ভালোবাসা, ভাষা, শিল্প এবং জগতের সঙ্গে একাত্ম সম্পর্কের শক্তি হিশাবে পড়েন। তাঁর কাছে সভ্যতার সমস্যা এই যে, জীবনের এই দেহী ও সম্পর্কময় শক্তিকে দমন, সাবলিমেশন, মালিকানা, কাজের বাধ্যতা ও বিমূর্ততার মধ্যে বন্দি করা হয়। ফলে মানুষ জীবিত থাকে, কিন্তু জীবনের বিরুদ্ধেই দাঁড়াতে পারে।
এরোস (Eros) আর কামনা এক জিনিস নয়। কামনা এরোসের একটি প্রকাশ হতে পারে, কিন্তু এরোস অনেক বিস্তৃত। কামনা সাধারণত কোনো অভাব, আকর্ষণ বা নির্দিষ্ট বস্তুর দিকে টান বোঝায়। আমি কিছু চাই, কাউকে চাই, কোনো আনন্দ চাই, কোনো ঘাটতি পূরণ করতে চাই—এখানে কামনা নির্দিষ্ট দিকে যায়। এর মধ্যে যৌন কামনা থাকতে পারে, আবার সম্পদ, মর্যাদা, ক্ষমতা বা স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষাও থাকতে পারে।
ফ্রয়েডীয় অর্থে এরোস হলো সেই বিস্তৃত জীবন-তাগিদ, যা জীবিত জিনিসকে ধরে রাখতে, যুক্ত করতে, সম্পর্ক গড়তে, বৃহত্তর একতায় বাঁধতে চায়। তাই এরোস শুধু “আমি চাই” নয়; বরং “জীবন নিজেকে টিকিয়ে রাখতে এবং অন্য জীবনের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়।” যৌনতা এরোসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু পুরা এরোস নয়।
আরেকভাবে বললে, কামনা বেশি ব্যক্তিক এবং বস্তু-নির্দেশিত; এরোস বেশি গাঠনিক ও জীবনমুখী। কামনা বলতে পারে “আমি তোমাকে চাই”; এরোস বলতে পারে “আমি সম্পর্ক চাই, মিলন চাই, জীবনের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে চাই।”
ব্রাউনের কাছে এই পার্থক্য আরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এরোসকে দেহ, খেলা, প্রেম, কল্পনা, শিল্প, ভাষা এবং জগতের সঙ্গে জীবন্ত সম্পর্কের শক্তি হিশাবে পড়েন। কিন্তু কামনা পুঁজিবাদী বা দমনমূলক ব্যবস্থায় বিকৃতও হতে পারে—বস্তু-কামনা, ভোগ-কামনা, মালিকানা-কামনা, ক্ষমতা-কামনা। সব কামনা তাই এরোসের মুক্ত প্রকাশ নয়।
বাংলার ভাবের ভাষায় বলা যায়: কামনা কোনো কিছুর দিকে টান; এরোস জীবনকে জীবনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার শক্তি। কামনা আমাকে অধিকার করতে চাইতে পারে; এরোস আমাকে সম্পর্কের দিকে নিতে পারে। কামনা বিচ্ছিন্নও করতে পারে; কিন্তু এরোসের গভীর প্রবণতা মিলনের দিকে।
তবে দুটিকে কঠোরভাবে আলাদা করাও ঠিক হবে না। আমর ফকির লাল শাহের ‘বিষামৃতে আছে রে মাখাজোখা’ কথাটা মনে রাখব। কামনা এরোসের ভেতর থেকেই জন্মায়, কিন্তু সামাজিক দমন, ভয়, মালিকানা, নফসের অহংকার বা বাজারের প্ররোচনায় তার রূপ বদলে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকার জন্য আমাদের লেখায় “কামনা” ও “এরোস” আমরা আলাদা রেখে ব্যবহার করব। সেটি ভাল হবে।
Sublimation–এর জন্য একক নিখুঁত বাংলা শব্দ পাওয়া কঠিন। প্রসঙ্গ অনুযায়ী কয়েকটি অনুবাদ ব্যবহার করা যায়, তবে ফ্রয়েড ও ব্রাউনের আলোচনায় আমরা আপাতত “তাগিদের উচ্চতর রূপান্তর” অনুবাদ করব বা সেভাবেই বুঝব। সেটাই বোধ হয় সবচেয়ে স্বচ্ছ ভাষান্তর হবে।
অর্থাৎ, যে কামনা বা তাগিদ সরাসরি পূরণ করা যাচ্ছে না, তা অন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা মানসিক কাজে রূপ নেয়—যেমন শিল্প, জ্ঞানচর্চা, ধর্ম, নৈতিকতা, প্রতিষ্ঠান, সৃজনশীলতা। এই রূপান্তরকেই ফ্রয়েড sublimation বলেন। বাংলায় ব্যাখ্যামূলক ভাবে সবলিমেশানের প্নুবাদ করতে হবে। সাবলিমেশানের সম্ভাব্য রূপ হতে পারে: উচ্চরূপায়ণ, উচ্চতর রূপান্তর, তাগিদের রূপান্তর, কিংবা ব্যাখ্যামূলক ভাবে “কামনা বা তাগিদকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য উচ্চতর কাজে রূপ দেওয়া”।
কিন্তু ব্রাউনের ক্ষেত্রে আরও সাবধানতা দরকার। তিনি sublimation–কে নিছক মহৎ সৃজনশীল রূপান্তর মনে করেন না; অনেক সময় তিনি এটাকে দেহী কামশক্তির দমন, দূরত্ব তৈরি, বিমূর্ততা এবং জীবনের শক্তিকে শুষে নেওয়ার প্রক্রিয়া হিশাবে সমালোচনা করেন। তাই ব্রাউন নিয়ে লিখলে প্রথমবার তাগিদের উচ্চতর রূপান্তর (sublimation) লিখছি। তারপর শুধু উচ্চরূপায়ণ বা তাগিদের রূপান্তর ব্যবহার করা যায়। অনেক সময় “উন্নীতকরণ” বা “উচ্চীকরণ” ব্যবহারের ঝোঁক আসে। শব্দগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে অজান্তেই ধরে নেওয়া হয় যে sublimation অবশ্যই নিম্ন থেকে উচ্চে ওঠা—যা ব্রাউনের সমালোচনামূলক অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। তাই আমাদের লেখায় প্রসঙ্গভেদে তিনটি রূপ ব্যবহার করা যায়: ‘এরোস (Eros)’, ‘জীবন ও মিলনের তাগিদ’, অথবা একটু কাব্যিক ভাবে ‘জীবনকে জীবন ও অন্য জীবনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার তাগিদ’। তবে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা দরকার: এরোস = ‘প্রাণ’ নয়, এরোস = ‘কাম’ও নয়; বরং প্রাণ, কাম, বন্ধন, মিলন ও সৃষ্টির বিস্তৃত তাগিদ।
কিন্তু নর্মান ও ব্রাউনের কাছে সমস্যা শুধু এই না যে জীবন আর মৃত্যু একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। বরং মানুষ মৃত্যুকে মেনে নিতে পারে না বলেই এমন এক সভ্যতা বানায় যা শেষ পর্যন্ত জীবন্ত শরীরকেই অস্বীকার করে। মৃত্যু এড়াতে গিয়ে মানুষ জীবনকে শুকিয়ে ফেলে। এই অদ্ভুত উল্টাপাল্টা অবস্থাই ব্রাউনের কাছে সভ্যতার রোগ।
এইখানেই ব্রাউনের সবচেয়ে শক্তিশালী ধারণাগুলোর একটি আসে: মানুষের মৌলিক নিউরোসিস বা মানসিক-বিকারের কেন্দ্র মৃত্যু নয়, বরং মৃত্যুকে মেনে নিতে না-পারা। ক্রিস্টোফার ল্যাশ তাঁর ভূমিকায় ব্রাউনের যুক্তি সংক্ষেপ করে বলেন, মানুষের সামাজিকতার যে রূপ আমরা ইতিহাসে জানি তা অসুস্থ, কারণ তার গোড়ায় আছে মৃত্যুকে মানতে না-পারা; সংস্কৃতি, স্মৃতি, উত্তরাধিকার, ক্ষমতা, কীর্তি—সবকিছুর ভেতর মানুষ যেন নিজের এক প্রতিস্থাপিত অমরত্ব বানাতে থাকে। এখানে ব্রাউন ফ্রয়েডকে কেবল গ্রহণ করছেন না; ফ্রয়েডকে ফ্রয়েডের নিজের শেষ দিককার আবিষ্কারের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
ফ্রয়েড থেকে ব্রাউনের ফারাক
ফ্রয়েডের প্রথম দিককার কাঠামোয় মানুষের কামনা বা লিবিডো একদিকে, আর সমাজের বিধিনিষেধ অন্যদিকে। পরিবার, বাবা, সামাজিক নিয়ম, নিষেধ—এগুলো কামনাকে দমন করে; ফলে নিউরোসিস তৈরি হয়। এই কাঠামোর মধ্যে দমন মূলত বাইরের দিক থেকে আসে।
কিন্তু ফ্রয়েডের পরের কাজ—বিশেষ করে নিজের সঙ্গে নিজের প্রেমের আদিগঠন (primary narcissism), Beyond the Pleasure Principle, মৃত্যু-তাগিদ, এবং প্রাক-ইডিপাল মায়ের প্রশ্ন—পুরানা কাঠামোকে অস্থির করে দেয়। ব্রাউন এই পরের ফ্রয়েডকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে দমন কেবল বাবা-মা বা সমাজ মানুষের ওপর চাপায় না; মানুষ নিজেই নিজের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। কারণ আলাদা হয়ে যাওয়া, নির্ভরশীল হওয়া, সীমাবদ্ধ হওয়া এবং মারা যাওয়ার সত্য মানুষ সহ্য করতে পারে না।
এইখানেই ইডিপাস-জটিলতা (Oedipus complex) নিয়ে তাঁর বড় বদল। প্রচলিত পাঠে ছেলের ইচ্ছা যেন মাকে “দখল” করা এবং বাবাকে সরানো। ব্রাউন বলেন, গভীরে বিষয়টি দখলের না, মিলনের। মায়ের সঙ্গে আদিম একতার যে অভিজ্ঞতা, বিচ্ছেদের পরে শিশু সেটি আবার পেতে চায়। তার কামনা তাই possession নয়, union।
এর সঙ্গে আসে ব্রাউনের বহুল আলোচিত ‘নিজেরই নিজের কারণ হওয়া’ জটিলতা (causa sui complex)। মানুষ এমন হতে চায় যেন সে কারও ওপর নির্ভরশীল না, যেন তার জন্মদাতা সে নিজেই, যেন মৃত্যু তার ওপর কোনো হক রাখে না। এখানেই আত্মনির্ভরতার আধুনিক অহংকার, অমরত্বের স্বপ্ন এবং ক্ষমতার বাসনা একই গভীর মানসিক গিঁটে এসে জড়ায়।
মার্কুজের সঙ্গেও ফারাক
হার্বার্ট মার্কুজের Eros and Civilization এবং ব্রাউনের Life Against Death প্রায় একই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ফ্রয়েডকে সভ্যতার সমালোচনায় ব্যবহার করে। কিন্তু দুজনের ফারাক খুব জরুরি।
মার্কুজের কাছে মূল সমস্যা হলো সামাজিকভাবে চাপানো ‘কর্মসম্পাদনের নীতি’ (performance principle): পুঁজিতান্ত্রিক সমাজ মানুষকে কাজ, উৎপাদন, শৃঙ্খলা ও দমনের মধ্যে বন্দি করে। একটি কম দমনমূলক সমাজ হলে এরোসের মুক্তির সম্ভাবনা বাড়ে।
ব্রাউন আরও গভীরে যান। তাঁর বক্তব্য হলো, দমনকে শুধু বাইরের সামাজিক চাপ দিয়ে বোঝা যায় না। শিশুর নিজের মধ্যেই বিচ্ছেদ, নির্ভরতা, ভালোবাসা, রাগ, মৃত্যু-ভয়—এসবের দ্বন্দ্ব কাজ করছে। ল্যাশ তাই বলেন, মার্কুজ যেখানে মূলত “এরোস বনাম সভ্যতা” দেখছেন, ব্রাউন সেখানে দমনের অভ্যন্তরীণ উৎস খুঁজছেন।
এ কারণে ব্রাউনকে কেবল ফ্রয়েডীয় মার্কসবাদী (Freudo-Marxist) বললেও কম বলা হয়। তাঁর সমস্যা শুধু শোষণ বা পুঁজিবাদী দমন না; প্রশ্ন হলো, যে মানুষ পুঁজিবাদ বানায়, তার আকাঙ্ক্ষা নিজেই কেন মালিকানা, সঞ্চয়, নিয়ন্ত্রণ এবং মৃত্যুকে অস্বীকার করার দিকে যায়?
সাবলিমেশন: সভ্যতার মহৎ কাজ, না দমনের উচ্চতর রূপ?
এখানে Life Against Death-এর সবচেয়ে বিস্ফোরক যুক্তি আসে। ফ্রয়েড সাধারণভাবে ধরে নেন, সরাসরি যৌন বা শরীরী তাগিদকে শিল্প, জ্ঞান, ধর্ম, নৈতিকতা, কাজ বা সংস্কৃতির উঁচু কাজে রূপান্তর করার নাম সাবলিমেশন (sublimation)। সভ্যতা এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
ব্রাউন প্রশ্ন করেন: যদি সাবলিমেশন জীবন্ত শরীরের আনন্দকে সরিয়ে দিয়ে বিমূর্ত, দূরবর্তী ও শরীরবিহীন জগৎ বানায়, তবে সেটি কি সত্যিই মুক্তি? নাকি দমনের আরও মার্জিত রূপ?
তাঁর পাঠে সাবলিমেশন লিবিডোকে শরীর থেকে সরিয়ে নেয়, ইন্দ্রিয় ও আকাঙ্ক্ষাকে বিমূর্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের ওপর মৃত্যুর কর্তৃত্ব বাড়ায়। বইটিতে তিনি এমনকি বলেন, সাবলিমেশনের ধারাবাহিক পথ ক্রমশ অবশ, দেহহীন ও আগ্রাসী সভ্যতার দিকে যায়; সেখান থেকে বের হওয়ার পথ আবার আরেক ধরনের সাবলিমেশন হতে পারে না। ব্রাউন “সংস্কৃতি বাদ দাও, কামনা মুক্ত করো”—এমন সরল কথা বলছেন না। বরং তিনি প্রশ্ন তুলছেন: সংস্কৃতি কি শরীরের শত্রু না হয়ে শরীরেরই রূপান্তরিত উৎসব হতে পারে?
মল, টাকা, পুঁজি
বাংলাদেশের পাঠকের কাছে প্রথমে অস্বস্তিকর লাগতে পারে যে ব্রাউন এত গুরুত্ব দিয়ে মল, পায়খানা, শরীরের নিচের দিক, মলত্যাগ, ধরে রাখা, ছেড়ে দেওয়া—এসব নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু এখানেই তাঁর রাজনৈতিক অর্থনীতির দরজা খুলে যায়।
ফ্রয়েডের পুরানা ধারণা ছিল মল, ধরে রাখা, মালিকানা, সঞ্চয় এবং টাকা—এগুলোর মধ্যে অবচেতনে সম্পর্ক আছে। ব্রাউন এটিকে সভ্যতার ইতিহাসে প্রসারিত করেন। শিশুর “আমার”, “ধরে রাখব”, “দেব না”, “আমিই নিয়ন্ত্রণ করব”—এই জগৎ পরে মালিকানা, টাকা, জমা, সম্পদ এবং পুঁজির জগতে নতুন রূপ নেয়।
তাঁর Filthy Lucre অধ্যায়ে অর্থনৈতিক যুক্তিবাদকে তাই সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বা সুস্থ বলে ধরে নেওয়া হয় না। পুঁজির সঞ্চয়ও শরীর, মৃত্যু এবং অমরত্বের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। বইয়ের শেষ দিকে তিনি দেখান, সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসে দেহের জাদু শুকিয়ে গিয়ে টাকা ও বিমূর্ত মূল্য আধিপত্য বিস্তার করে; রিফর্মেশন এবং পুঁজিবাদের উত্থান এই ইতিহাসের বিশেষ পর্যায়।
বাংলাদেশের জন্য এই জায়গাটি বিশেষ উর্বর। কারণ “অর্থনীতি”কে আমরা সাধারণত উৎপাদন, আয়, ব্যাংক, টাকা বা বাজারের ভাষায় দেখি। ব্রাউন প্রশ্ন করতে শেখান: অর্থনৈতিক মানুষ আসলে কী কামনা করে? কেন জমায়? কেন মালিক হতে চায়? কেন সীমাহীন সম্পদেও তৃপ্ত হয় না?
বাংলাদেশের সাধারণ পাঠকের জন্য কথাটি এভাবে আরও পরিষ্কার করে বলা যায়:
আমরা যখন ‘অর্থনীতি’ বলি, তখন সাধারণত কিছু পরিচিত বিষয় মাথায় আসে—কত উৎপাদন হলো, কত আয় হলো, ব্যাংকে কত টাকা আছে, বাজারে দাম কত, রপ্তানি-আমদানি কেমন, বিনিয়োগ বাড়ল কি না। এগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্রাউন আমাদের আরেক ধাপ গভীরে যেতে বলেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পেছনে যে মানুষ কাজ করছে, সে আসলে কী চায়? শুধু প্রয়োজন মেটাতে চায়, নাকি আরও কিছু?
মানুষ কেন জমায়? প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেন রাখে? কেন মালিক হতে চায়? কেন সম্পদ, জমি, টাকা, শেয়ার, বাড়ি—এসব যত বাড়ে, ততই আরও বাড়ানোর তাগিদ তৈরি হয়? যদি অর্থনীতি শুধু প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা হতো, তাহলে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে মানুষ বলত: যথেষ্ট হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি ‘যথেষ্ট’ বলে কিছু থাকে না। এখানেই ব্রাউনের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি অর্থনীতিকে শুধু বাইরের লেনদেন হিশাবে দেখেন না; মানুষের ভিতরের ভয়, নিরাপত্তাহীনতা, কামনা, দখল করার তাগিদ, মৃত্যুভয় এবং নিজেকে স্থায়ী করে রাখার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে অর্থনীতির যোগ খোঁজেন। অর্থাৎ টাকা শুধু টাকা না, সম্পদ শুধু সম্পদ না; এগুলো অনেক সময় নিরাপত্তার প্রতীক, ক্ষমতার প্রতীক, মর্যাদার প্রতীক, এমনকি নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখারও প্রতীক হয়ে ওঠে।
এই জায়গাটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে সম্পদ জমা, জমি দখল, ব্যাংক লুট, বিদেশে টাকা পাচার, অকারণ বিলাস—এসবকে আমরা অনেক সময় শুধু দুর্নীতি বা আইনের সমস্যা হিশাবে দেখি। কিন্তু ব্রাউনের দৃষ্টিতে প্রশ্ন আরও গভীর: মানুষ কেন এমনভাবে জমায় যেন কখনও যথেষ্ট হবে না? কেন মালিকানা শুধু প্রয়োজন মেটানোর বিষয় না হয়ে নিজের শক্তি প্রমাণের ভাষা হয়ে ওঠে?
আরও সহজ করে বললে, একজন মানুষ যদি দশ কোটি টাকা থাকার পরও একশ কোটি চায়, আর একশ কোটি থাকার পরও হাজার কোটি চায়, তাহলে প্রশ্ন শুধু তার আয় কত নয়। প্রশ্ন হলো, সে আসলে কী খুঁজছে? নিরাপত্তা? ক্ষমতা? অমরত্বের অনুভূতি? অন্যের ওপর প্রাধান্য? নিজের ভয় ঢাকার উপায়?
ব্রাউন আমাদের শেখান, অর্থনীতির ভিতরে মনস্তত্ত্বও কাজ করে। বাজার শুধু পণ্য চালায় না; কামনাও চালায়। বিজ্ঞাপন শুধু জিনিস বিক্রি করে না; মানুষের ভিতরে ঘাটতির অনুভূতিও তৈরি করে। মালিকানা শুধু সম্পদ দেয় না; ‘আমি কত বড়’—এই অহংও বাড়াতে পারে। ফলে অর্থনীতি বুঝতে হলে শুধু ব্যাংক ও বাজেট দেখলেই হবে না; মানুষের কামনা কীভাবে তৈরি হচ্ছে, ভয় কীভাবে বাজারে রূপ নিচ্ছে, আর মালিকানা কীভাবে পরিচয় হয়ে উঠছে—সেটাও দেখতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি বোঝার জন্য এই দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষ ফলপ্রসূ। কারণ তখন আমরা জিজ্ঞেস করতে পারি: আমাদের অর্থনীতি কি মানুষের প্রয়োজন মেটাতে তৈরি, নাকি অন্তহীন জমা, দখল ও মর্যাদার প্রতিযোগিতা বাড়াতে তৈরি? সম্পদ কি জীবনের উপায়, নাকি জীবনই সম্পদ জমার উপায় হয়ে গেছে?
এই উলটা সম্পর্কটি বুঝতে পারলেই ব্রাউনের প্রশ্নের গভীরতা ধরা পড়ে। অর্থনীতি তখন শুধু উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা নয়; মানুষের কামনা, ভয়, মালিকানা এবং জীবনের অর্থ নিয়ে এক গভীর সামাজিক নাটক।
ইতিহাস কী?
এইখানে বইটির উপশিরোনাম—The Psychoanalytical Meaning of History—গুরুত্ব পায়। ইতিহাস ব্রাউনের কাছে শুধু ঘটনার ধারা নয়। ইতিহাস হলো দমনেরও ইতিহাস, এবং দমন করা জিনিস ফিরে আসার ইতিহাস।
তিনি রোমান্টিক চিন্তার একটি বড় নকশার সঙ্গে মনোবিশ্লেষণ যোগ করেন: শুরুতে একতা, তারপর বিচ্ছেদ ও বিরোধ, তারপর উচ্চতর স্তরে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা। হেগেল ও মার্কসের ইতিহাসভাবনার সঙ্গে এর আত্মীয়তা তিনি সরাসরি দেখেন। কিন্তু তাঁর দাবি, মনোবিশ্লেষণ এই ঐতিহাসিক নকশাকে শিশুর শরীর ও মানসিক বিকাশের ভেতর বস্তুগত ভিত্তি দেয়।
তবে এখানে ব্রাউনের ঝুঁকিও শুরু। সব ইতিহাসকে কি শিশুর বিকাশ, যৌনতা, মল, মৃত্যু-ভয় ও দমন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়? শ্রেণী, রাষ্ট্র, ঔপনিবেশিকতা, যুদ্ধ, জমি, উৎপাদন-সম্পর্ক—এগুলোর নিজস্ব বস্তুগত ইতিহাস কি তাতে ছোট হয়ে যায়? এই প্রশ্ন আমাদের পর্যালোচনায় অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
‘দেহের পুনরুত্থান’
বইয়ের শেষ অধ্যায়ের নাম The Resurrection of the Body। এই নাম ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মতাত্ত্বিক। ব্রাউনের ধারণা হলো, মানবমুক্তি মানে কেবল রাষ্ট্র বদলানো, অর্থনীতি বদলানো কিংবা মানসিক চিকিৎসা নেওয়া না; মানুষের শরীরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কই বদলাতে হবে। এখনে ফকির লালন শাহ এবং নদীয়ার ভাবুকতার সঙ্গে ব্রাউনের সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তিনি একে ‘দমন বিলোপ’ এবং খ্রিস্টীয় ভাষায় ‘দেহের পুনরুত্থান’ বলেন মুক্ত শরীর হবে এমন শরীর যা খেলতে পারে, আনন্দ নিতে পারে, অন্য মানুষ ও দুনিয়ার সঙ্গে আগ্রাসনহীন মিলনে যেতে পারে; একই সঙ্গে মৃত্যু অস্বীকার না করে মৃত্যুকে ধারণ করতে পারে। তাঁর সবচেয়ে কঠিন কথাটি এখানেই: জীবন তখনই মওতের-তাগিদকে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারে, যখন শরীর মরতে রাজি। এটি আত্মবিনাশের ডাক নয়। বরং ঠিক উলটা: মৃত্যুকে অস্বীকার করতে গিয়ে যে মৃত-জীবন বানাই, তা থেকে বের হওয়া।
এই ধারণার সঙ্গে আমাদের বাংলার দেহী চিন্তা—ফকিরি, সুফি, বৈষ্ণব, দেহসাধনা, “মরার আগে মরা”, দেহের মধ্যে জগতের সম্পর্ক—নিয়ে পরে খুব ফলপ্রসূ বাহাস হতে পারে। তবে শুরুতেই ব্রাউনকে লালন বা সুফিবাদের সঙ্গে এক করে ফেলা উচিত হবে না। আগে ব্রাউনের নিজস্ব যুক্তি পুরোপুরি দাঁড় করানো দরকার।
ব্রাউন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা আমি অন্যত্র করছি।
তাঁর অন্য বইগুলো
Hermes the Thief: The Evolution of a Myth (1947) তাঁর প্রথম বড় বই। গ্রিক দেবতা হার্মিসকে নিয়ে এই গবেষণায় পুরাণ, সমাজের গঠন এবং অর্থনৈতিক বিনিময়ের সম্পর্ক তাঁর আগ্রহের কেন্দ্রে আসে। এখানেই পরের ব্রাউনের কিছু বীজ পাওয়া যায়।
Hesiod’s Theogony (1953) হেসিয়ডের গ্রন্থের অনুবাদ ও বিস্তৃত ভূমিকা। দেবতাদের জন্ম, প্রজন্ম, ক্ষমতার সংঘাত এবং মহাজাগতিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন নিয়ে তাঁর কাজ। এই পুরাণপাঠ পরে মনোবিশ্লেষণ ও ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যায়।
Life Against Death (1959) তাঁর চিন্তার বড় মোড়—ফ্রয়েডকে ইতিহাসের তত্ত্বে রূপান্তর করার চেষ্টা।
Love’s Body (1966) আগের বইয়ের সরাসরি ধারাবাহিকতা। ব্রাউন নিজেই এ কথা বলেন। কিন্তু এর ভাষা আর প্রচলিত একাডেমিক বিশ্লেষণের ভাষা থাকে না। “স্বাধীনতা”, “প্রকৃতি”, “ত্রিত্ব”, “একতা”, “ব্যক্তি”, “প্রতিনিধিত্ব”, “সীমানা”, “খাদ্য”, “আগুন”, “পুনরুত্থান”, “বিচার”, “স্বাধীনতা”, “শূন্যতা”—এইরকম বিষয় ধরে বইটি এগোয়। এখানে শরীর, রাজনীতি, ধর্ম, যৌনতা ও ভাষা একে অপরের মধ্যে ঢুকে পড়ে।
Closing Time (1973) জেমস জয়েস এবং জিয়ামবাত্তিস্তা ভিকোর সঙ্গে এক ধরনের দার্শনিক কথোপকথন; ইতিহাস, ভাষা ও পুনরাবৃত্তির প্রশ্ন তাঁর আগ্রহে থাকে। বইটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত। (Wikipedia)
Apocalypse and/or Metamorphosis (1991) প্রবন্ধ ও বক্তৃতার সংকলন। গ্রিক পুরাণ থেকে ইসলাম, স্পিনোজা, Finnegans Wake, বাতাই—বহু দিকে তাঁর চিন্তা যায়; প্রকাশক একে Life Against Death ও Love’s Body-র সঙ্গে একটি ত্রয়ীর শেষ পর্ব হিশাবে দেখেছে। (Wesleyan University Press)
মৃত্যুর পরে The Challenge of Islam: The Prophetic Tradition নামে তাঁর ইসলাম-সম্পর্কিত বক্তৃতা/লেখার সংকলনও প্রকাশিত হয়েছে। এই বই পরে আমাদের জন্য আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে, কারণ তখন দেখা যাবে ব্রাউনের দেহ, নবুয়ত, ইতিহাস ও ‘অ্যাপোক্যালিপ্স’-ভাবনা ইসলামের পাঠে কীভাবে বদলায়। (Wikipedia)

