তিনটি ভাষার তিনটি কবিতা

।। ভাষান্তর- জাহিন ফারুক আমিন ।।

সবচেয়ে ভয়ংকর

অবতার সিং সান্ধু

মেহনত লুট হয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভয়ংকর নয়
পুলিশের মার খাওয়া সবচেয়ে ভয়ংকর নয়
গাদ্দারি কিংবা লোভের খাবলা সবচেয়ে ভয়ংকর নয়।

শুয়ে বসে ধরা পড়ে যাওয়া খারাপ বটে
ভয়ে ভয়ে চুপ থেকে মরে যাওয়া খারাপ বটে,
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর নয়।

সঠিক জেনেও কপটতার কোলাহলে চুপ থাকা খারাপ তো বটেই,
জোনাক জ্বলা টিমটিমে আলোয় পড়তে বসা,
কিংবা হাত মুঠি করে সময় পার করে দেওয়া খারাপ তো বটেই,
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর নয়।

সবচেয়ে ভয়ংকর হল,
মড়ার মতো শান্তিপূর্ণ হয়ে থাকা
না রেগে সব সয়ে যাওয়া
রোজ রোজ কামলা দিতে বেরিয়ে যাওয়া
আর কাজ শেষে ঘরে ফিরে আসা

সবচেয়ে ভয়ংকর হল আমাদের স্বপ্নের মরে যাওয়া।

সবচেয়ে ভয়ংকর হল ঐ ঘড়িটা,
যেটা আমাদের কব্জিতে চলতে থাকে
কিন্তু দৃষ্টিতে হয়ে থাকে নিথর।

সবচেয়ে ভয়ংকর হল ঐ চোখটা,
যেটা সবকিছু দেখে হিমশীতল হয়ে থাকে
যেটা পৃথিবীকে ভালবাসার দৃষ্টিতে চুমু খেতে ভুলে গেছে
কিংবা সেই চোখ যেটা দুনিয়াবি ধোঁয়াশায় ,
জীবনের অকারণ বিষণ্ণতায় হারিয়ে গেছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর হল ঐ চাঁদটা,
যেটা প্রতিটা খুনের পর বিরানভূমিতে জ্বলে ওঠে
কিন্তু যার আলো আমাদের চোখকে মরিচের গুড়ার মতো জ্বলায় না।

সবচেয়ে ভয়ংকর হল ঐ গান,
যেটা আমাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে বিলাপ করে
আর এমনভাবে বাজে যেন মনে হয়
আতংকিত মানুষের দরজায় গুন্ডার মতো কড়া নাড়ছে।

সবচেয়ে ভয়ংকর হল ঐ রাত,
যার আকাশ জীবিত আত্মায় ছেয়ে আছে
অথচ শোনা যাচ্ছে হায়েনার গর্জন আর পেঁচার ডাক,
যেন অনন্ত অন্ধকার বন্ধ করে দিয়েছে
অস্তিত্বের সব দরজা-জানালার কপাট

সবচেয়ে ভয়ংকর হল সেই দিগন্ত,
যেখানে আত্মার সূর্যটা ডুবে যায়
আর যার মরা চিলতে রোদ
আমাদের শরীরের পূর্বদিক বরাবর ঢুকে যায়।

মেহনত লুট হয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভয়ংকর নয়
পুলিশের মার খাওয়া সবচেয়ে ভয়ংকর নয়
গাদ্দারি কিংবা লোভের খাবলা সবচেয়ে ভয়ংকর নয়।

সবচেয়ে ভয়ংকর হল আমাদের স্বপ্নের মরণ।

অবতার সিং সান্ধু ওরফে পাশ

পাঞ্জাবী কবি এবং মাওবাদী বিপ্লবী। জন্ম ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫০ এসায়ী সাল, ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্দরে। ১৯৮৮ এসায়ীর ২৩ মার্চ খালিস্তানপন্থী আততায়ীদের হাতে খুন হন নিজগ্রামে

তর্জমা

মুরীদ আল-বারগূথী

কবি বসে লিখছে ক্যাফেতে।

বৃদ্ধা ভাবছে
চিঠি লিখছে মাকে,
তরুণী ভাবছে
লিখছে প্রেমিকাকে,
বাচ্চা ভাবছে
আঁকিবুঁকি,
সওদাগর ভাবছে
ব্যস্ত সে, কায়কারবারে
মুসাফির ভাবছে
লিখছে পোস্টকার্ড,
ভৃত্য ভাবছে
মেলাচ্ছে সে দেনার অংক,
আর গুপ্তচর
এগিয়ে আসছে, ধীরে, কবির দিকে।

মুরীদ আল-বারগূথী

ফিলিস্তিনি কবি ও লেখক। জন্ম ৮ জুলাই ১৯৪৪ এসায়ী, ফিলিস্তিনের বনি জায়েদ শহরের দেয়ার ঘাসানা গ্রামে। মৃত্যু ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১ এসায়ী সালে জর্ডানে

আরও একটি

রন প্যাজেট

যখন ছিলে ছোট, শিখেছিলে
মাত্রা আছে তিনটা
দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, বেধ
এই যেমন জুতার বাক্স
তারপর জানলে,
আছে এক চতুর্থ মাত্রাও
সময়
হুম
পরে কেউ কেউ বলল, থাকতে পারে আরও আরও মাত্রা,
পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম….

আমি কাজ সারি
বারে বসে বিয়ার সাঁটাই
গেলাশের মধ্যে তাকাই,
ভাল্লাগে আমার।

রন প্যাজেট

মার্কিন কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার এবং অনুবাদক। জন্ম ১৭ জুন ১৯৪২ এসায়ী, আমেরিকার ওকলোহামা রাজ্যে। বর্তমানে নয়া ইয়র্কের বাসিন্দা, এবং ‘পোয়েট্রি প্রজেক্ট এট সেইন্ট মার্কস্‌ চার্চ’-এর প্রধান হিশেবে কর্মরত।

জাহিন ফারুক আমিন

চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং গবেষণার সাথে যুক্ত। জন্ম ১৭ জুন ১৯৯৩, বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায়। বর্তমানে দিল্লীর জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ আর্টস এন্ড এস্থেটিক্‌সে অধ্যয়নরত

Share