আজ রবিবার, ৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাথর ছাড়া আর কেই বা ভালোবেসেছে 

হিংসার প্রতিমা 
ভয়ানক সুন্দর 
হাত দিয়ে মুখখানি জড়ো করে ধরলে

ভীত
সন্ত্রস্ত 
নির্বিকার 

অহিংসা বলে কিছু হয় না 
মূলত প্রেম হয়, ভক্তিও
তারপরে হাত আরো বড় করে মুখখানি ধরলে 
নির্বাণ আনন্দে জগদ চুলায় যায় তার

আমার সব প্রতীক্ষা ফুরিয়ে গেছে 
নিজে কারু কাছে যাব 
এই কথা ভাবলেও বুক ধড়ফড় করে উঠছে
সাইকেল থামিয়ে দিচ্ছি, কোন নদী থেকে
স্রোত খলখল করছে ব্রিজের তলায়
আমার পায়ের নিচে সমস্ত 
পাথর ছাড়া আর কেই বা ভালোবেসেছে 
এমন স্রোত, যাদের ভালোবাসি 
তাদের সবার মুখ ভুলে যেতে চাই,
ঈশ্বর আমাকে দয়া না করুক
শুধু বুকের উপর তাঁর নখ দাঁত দিয়ে 
জলের তলায় পিষে ধরুক, অন্তত শাস্তি কমাতে 
আমি তো স্বীকার নয় শপথ নিচ্ছি 
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আর কোনোদিন মাথা তুলব না

কিন্তু ঈশ্বর বলি প্রেম বলি সহজ আনন্দ বলি 
কিংবা নির্লজ্জ দয়াময় স্রোত, বিচারক ও নিয়ন্ত্রকের
অপরাধ হিসাব করবে কে
তাদের করুণা আমার শাস্তি, বেবাকদের বোঝাবে কে 
মাথা ঠুকি, পাথরটিকে ঠেলে দাও প্রভু 
আর আমার সাহসে কুলোচ্ছে না 
প্রার্থনায় জড়ো হচ্ছে না একটিও গান 
আমায় আর কিছু ফিরিয়ে দিও না ভগবান 
নিয়ে যাও স্রোতের পরিত্রাণে, নিয়ে যাও যেখানে 
অনর্থ সুখ থেকে অর্থের পরিতাপ বেশি
আর দয়া আর শাস্তি চাই না, একবার মুখ ফুটে বলো
এই নাও নতুন আঁধার। এই দফা বাঁচিয়ে দিলাম।

অন্তত এর কোনো হদিস দিন ডাক্তার
পেট থেকে এতটা ঝুলে বেরিয়ে আসবে আমিও ভাবিনি আগের চেয়ে ক্ষতি বেড়েছে
সব দুঃখে সে একা টনটন করে
কোমরে একটা যন্ত্রণা ছিল, আপনাকে বলেছিলাম
তাকে আর মনে করতে পারি না 
অতীত পছন্দের মনে করি 
রোগ হলে তবে বুঝি 
সুখ আসলে একটা সময় 
অতীত বা ভবিষ্যতের কিয়দংশ
বা অন্তত আমার সাথে তার নির্মেদ সম্পর্ক 

আহ! আপনাকে সব খুলে বলতে হবে 
মোটামুটি পা চালানোর, এখন স্থবির যদিও
বলা যখন অসুখের কথা, আমি বলি ভয়ের কথা
আমাকে হাঁটায় কে
কমলা ছায়ার নিচে ভয় হয়, 
কে জানে এই ভয় ভালো 
আমাকে পানীয় দিল যে বা সূর্য 
তার থেকে তরলের দৈন্য ঠিক যেমন 
সব আলো থেকে নিগাঢ় অন্ধকার
সব স্বাদ থেকে নিস্তেজ আগুন
সব শিলা থেকে আমার কৌণিক দূরত্ব 
রাত ফয়শালার
ঘুম কুষ্ঠের আতঙ্ক
সকাল অপরাধীর শাস্তি
আমাকে হাঁটাবে কে 
বেগুনি জলের নিচে গলাখানি রেখে
ভয়ে ভয়ে সবদিকে, রাত হল, সঙ্গীণ ত্রিকোণ পুকুর
গাছগুলির চরিত্র বোঝা যাচ্ছে না
চাঁদেরও না তাই রাতেরও না 
সুতরাং আমার বেরাদর এই রাত একমাত্র
অধিকার পাবে এই সবকিছু শুনবার।
কিয়দংশ থেকে অধিকাংশ এখন জলের তলায়।

এখান থেকে সঙ্গীকে মনে করুন
তার নির্মোহ হাসি, শিষ্টের তুষ্টি
আমাকে ভাবতে কে বাধ্য করাচ্ছে 
আপনার সঙ্গী এই পুকুরটি খুঁজে খুঁজে 
চুরাস্তা থেকে কাল ফিরে গেছে
সন্দেহ নিয়ে আজ তাই এখনই নির্লজ্জ
চাঁদের নিচে একটি গলা, ছেড়া ছোড়া চুল 
আকাশে জ্বলজ্বল চোখের মণির ছাপ
খুঁজে খুঁজে রবিউল নায়েকের আলপথ ধরে 
এইখানে এসে পৌঁছবে 

আমায় আর এই ভয় দেখিওনা ডাক্তার
জানি তুমি দেখাচ্ছ না, এত কিছু না শুনে পেটটা টিপে দেখতে চাইছ
আসলে একটা গান মনে করবার চেষ্টায় ভয় 
থেকে থেকে সবখানে ভয়কে সাহস জুগিয়েছে
এখন চেহারা আমার মত
মাফ কোরো, কবিতা এজন্যেই লিখি
আমি যাকে তাকে দোষ দিতে পারি না
আমাকে হাটালো, অথচ আমার পায়ের ছাপ মুছে দিল না
শুধু এইটুকু ভেবে রাগ হয়

আর এখন
এইসব রোগ সিজনাল থেকে স্থায়িত্বে 
এক ফোটা এক ফোটা করে প্রতিটা বিন্দুকে 
দূরে ঠেলে দেবে বলে একজড়ো হচ্ছে,
সব লোম পেট থেকে উঠে যাবে 
চুল টেনে ছিঁড়ে নেবে হাত 
গলাটি দুদিক থেকে ধরলেই
আবার আমার নরম মন মনে করবে 
পেটের কথা, আপনার কাছে আসব না এ জন্মে 
তাতে কোনো ব্যভিচার ছিল না
অথচ পৃথিবীর সব বস্তু আমার দিকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে 
যত আমি দেখছি নাভীর নিচে আপনাকে শেষবার দেখিয়েছিলাম,
তার মাংসল অস্থি ঝুলে ঝুলে মাটিতে লোটাচ্ছে
আমি আর চাইলেও হাটতে পারছি না ডাক্তার
কয়েক সপ্তাহ পজেসড সৈনিকের মতন মোকাবিলায়
আমার গোটা শরীর অবশ হতে চলেছে
আমি এখন পূর্ণ নিরস্ত্র
যে সব মহিমায় আমার পরাজয় সুদৃশ্যমান ও অজেয়
অন্তত তার মধ্যে একটাকে চিনে নিতে চাই, 
আমি হাজির হয়েছি,
আপনি মহাশক্তিমান, 
এর কোনো হদিস দিন ডাক্তার

তীর্থরাজ ত্রিবেদী

লেখক, সমাজকর্মী, বসবাস পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে।

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top