আজ শনিবার, ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এখন একুশ, আজকের একুশ

দুনিয়ায় ভাষার জন্য শাহাদত বরণ ও ভাষাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রকায়েমের সংগ্রামের সূচনা একমাত্র নজির বঙ্গদেশেই রয়েছে৷ উপমহাদেশ-সহ গোটা বিশ্বে ভাষা আন্দোলনের বেশ কিছু নজির থাকলেও মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন এবং বুলেটে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার নিদর্শন বাংলা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষার ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে৷ পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় একদল তরুণের শহিদ হয়ে যাওয়ার ঘটনার পরম্পরাতেই আমরা ইতিহাসে হাজির হতে লক্ষ্য করেছি, ১৯৫৯ সালে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের মানভূমে বাংলা ভাষার আন্দোলন এবং ১৯৬১ সালে ঈশানবঙ্গে মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন৷ ৫২-র একুশে ফেব্রুয়ারির মতোই ১৯৬১ সালে ঈশানবঙ্গে অর্থাৎ অসমের শিলচরে বাংলা ভাষার জন্য শাহাদত বরণ করেছিলেন এক বঙ্গকন্য৷ শুধু তাই নয় পূর্ব পাকিস্তানের অন্দরেও একুশের পরম্পরায় একুশের স্পিরিট ধারণ করেই ১৯৬৯-এ ঘটেছিল গণঅভ্যুত্থান৷ আর তারপর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ পত্তন। আবার এই একুশ আত্মমর্যাদা ও ইনসাফের এমন এক চেতনা তৈরি করতে পেরেছিল যে তার পরম্পরাতেই স্বাধীন বাংলাদেশেও ছাত্রযুবরা বারবার জুলুমশাহীর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে৷ যার নজির নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে বিজয় এবং চব্বিশে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওগামী লীগ সরকার পতনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা৷ এই সকল ঐতিহাসিক কালখণ্ডের ভিতরে উঁকি মারেন একুশের শহিদেরা। কারণ মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের মধ্যেই অন্তর্নিহিত ছিল গণতন্ত্র, সাম্য, মৈত্রী, ন্যায় ও সহাবস্থানের সমাজ কায়েমের অভিপ্রায়গুলি।

এদিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, একুশের পরম্পরা বহন করার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত বঙ্গীয় পরিসরগুলি তেমন সক্রিয় নয়৷ পুরুলিয়াকেন্দ্রিক মানভূমের বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিসত্তার আন্দোলন এবং অসমের শিলচরে বাংলা ভাষার জন্য শহীদ হওয়ার মতো ঐতিহাসিক নিদর্শন থাকলেও এখন একুশে ফেব্রুয়ারি শুধুই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আর এই দিবসকে কেন্দ্র করে ফোর্টউলিয়াম কলেজকৃত সংশোধনবাদী উপনিবেশমন্য প্রমিতভাষাওয়ালা বাবু বাঙালিদের কলকাতা কেন্দ্রিক পশ্চিমবঙ্গে এই একটি দিন শুধুই সঙ্গীত ও কবিতার মাধ্যমে ইতিউতি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু দেখা যায় না৷ অথবা বড়জোর মাতৃভাষার জন্য জীবন কুরবান করা শহিদদের আনুষ্ঠানিক স্মরণ এই দিনটকে ঘিরে৷ অথচ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের বঙ্গীয় পরিসরগুলিতে আজকে একুশ ফেব্রুয়ারিকে ভাষা ও জাতিসত্তার গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের প্রেরণা হিসাবে পুনর্প্রকাশ বড়ই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছিল৷ কেননা যেভাবে পাকিস্তান সরকার একদা বাংলা ভাষা ও বাঙালি-সহ বঙ্গীয় জাতিসত্তাগুলির উপর নামিয়ে এনেছিল দমনপীড়ন, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে ভারত জুড়ে৷ হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের স্লোগান তুলে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রকে হিন্দিভাষিক ও হিন্দুত্ববাদী জাতিরাষ্ট্রে বিনির্মাণ করার গৈরিক ফ্যাসিবাদী প্রক্রিয়ায় বাংলা ও বাঙালির ওপর নামিয়ে আনা হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস৷ বাঙালি-সহ সকল বঙ্গীয় ভূমিসন্তানের ভাষায়, জাতীয়তায়, নাগরিকতায় এবং অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে নেমে এসেছে চরম নিপীড়ন৷ ২০১৮ সালে অসমে এনআরসি (জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ) প্রক্রিয়ায় মোট ১৭ লাখ বাঙালিকে ডিভোটার করা হয়েছিল৷ যার মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ বাঙালি হিন্দু ও ৬ লাখ বাঙালি মুসলিম৷ আর এই মোট ১৭ লাখের মধ্যে পাঁচলাখ বাঙালিকে পাঠানো হয়েছিল ডিটেইনশন ক্যাম্পে৷ এহেন নাৎসীবাদী প্রক্রিয়াক্রমে ২০২৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে ট্যাগ দিয়ে কোথাও জেলে পাঠানো হচ্ছে, কোথাও আবার পুশব্যাক করানো হচ্ছে বাংলাদেশে৷ বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী সংস্থা বা বিজিবির তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকে পুশব্যাক করা মোট ১২৮ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্র৷ ২০২৪ সালে গণহত্যাকারী, ফ্যাসিস্ট ও মোদিবাহিনীর অংশীদার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের পতন হলে শেখ হাসিনা-সহ বহু আওয়ামী নেতাকর্মী যখন থেকে ভিসা ছাড়াই দিল্লির বদৌলতে ভারতে আশ্র‍য় পান, তখন থেকেই আরএসএস-বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ-অসম ও ত্রিপুরার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি ট্যাগ দিয়ে দমনপীড়ন ও পুশব্যাক প্রক্রিয়াকে শীর্ষে নিয়ে যায়৷ একদিকে দিল্লির সরকার অবৈধভাবে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ভারতে পুষছে অন্যদিকে তারাই আবার ভারতীয় বাঙালির বড় অংশকে বাংলাদেশি ট্যাগ দিয়ে পুশব্যাক করছে৷ এরপর এলো এসআইআর বা ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া!

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় ভোটার তালিকার সংশোধনের নামে বাঙালি, রাজবংশী, সাঁওতালি ও কুড়মি জাতিসত্তার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে বাংলার জল-জমি-জঙ্গল কেড়ে নেওয়ার ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লির সরকার বা ভারতের ইউনিয়ন সরকার৷ নির্দিষ্ট নথি দাবি করে সেই নথিগুলিতে নামের বানান বিভ্রাট ইত্যাদির অজুহাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে অকাতরে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বাংলার ভূমিসন্তানদের৷ কেন্দ্রীয় সরকারের ইস্যু করা নথিতে নিজের বা পরিবারের নামের বানান ভুলের দায় একান্ততই সরকারের৷ কিন্তু নথির তথ্যবিভ্রাটে নিজেদের দায়কে বাংলার মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়ে বেনাগরিক করার গেরুয়া নকশা ফেঁদেছে দিল্লির বিজেপি সরকারের সুতো নিয়ন্ত্রিত পুতুল ভারতের নির্বাচন কমিশন৷ বাংলার মানুষকে বেনাগরিক করে সেখানে হিন্দিভাষীদের প্রতিস্থাপিত করাই এদের মূল লক্ষ্য৷ সবচেয়ে বেশি এহেন রাষ্ট্রীয় জুলুম চালানো হচ্ছে নিম্নবর্গের বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলিমের ওপর৷ বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে এসআইআর-এর আতঙ্কে৷ এর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও কিয়দাংশের বাংলার সচেতন কিছু বুদ্ধিজীবী জনমানুষকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করলেও প্রগতীশীলতার মুখোস পরা সুশীল, সেক্যুলার রাজনৈতিক ও সামজিক গোষ্ঠীগুলি নীরব৷ বরং উলটে তারা বিজেপি ও দিল্লির সরকারের দালালিও করছে কোথাও৷ নিজের ও বাংলার নাক নাক কেটে তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অগ্রসরতা রুখে দিতে মীরজাফর, কৃষ্ণচব্দ্র রায় ও নবকৃষ্ণ দেবেদের মতো দালালে পরিণত হয়েছে৷ সিরাজোদৌল্লার পতনের লক্ষ্যে ঠিক যেভাবা ঔপনিবেশিক দালালরা ব্রিটিশের পক্ষ নিয়েছিল, যেভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান জামায়াত ইসলামের পূর্ববঙ্গীয় শাখা ঘাতক দালালে পরিণত হয়েছিল কলকাতার একদল সোকল্ড প্রগতীশীল, সেক্যুলাররা সেভাবেই হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি আধিপত্যের পক্ষ নিয়ে হয়ে উঠেছে হিন্দি-হিন্দু রাজাকার৷

মনে রাখা দরকার, এই নব্য হিন্দি-হিন্দুত্বের রাজাকারদের রাজনৈতিক পূর্বপ্রজন্মই বাংলা ভাষাকে সংস্কারের নামে ঔপনিবেশিক প্রভুদের ভাষা সংস্কারের দালালি করেছে৷ বৈদিকযুগের বহু আগে থেকে যে বঙ্গাল ভাষা প্রাকৃত, মৈথিলী, ব্রজবুলির সংশ্লেষণ ও পরবর্তীতে আরবি-ফার্সি-তুর্কি ইত্যাদির উপাদানে সমৃদ্ধ ও বেগবান হয়েছে সেই বঙ্গালা ভাষা থেকে আরবি-ফার্সি-তুর্কিকে বিযুক্ত করে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ আমাদের জবানে ভিতরে তৈরি করেছে সংস্কৃতের আধিক্য৷ ইহাই ক্রমে ভাষার প্রমিতকরণের রাজনীতিকে সামনে এনেছে৷ যার জাঁতাকলে বাংলা ভাষার নিজস্ব বৈচিত্রের নিরাকরণ ঘটেছে অনেকাংশে৷ অন্যদিকে জাতীয়তার প্রশ্নেও কলকাতাকেন্দ্রিক ভুয়া নবজাগরণ থেকে সৃষ্ট উপনিবেশমন্য বর্ণহিন্দু বাবু বাঙালি ব্রিটিশ এম্পায়ারগণের সুবিধার্থে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী বয়াম নির্মাণ করেছে৷ জাতি মূলত ভাষা ও জাতিসত্তা নির্ভর৷ তাই ভারতীয় বলে তো কোনো জাতি নাই৷ উপমহাদেশকে একটি ব্রিটিশ রুলিংয়ে শাসনের সুবিধার্থে দরকার ছিল বহুত্ববাদী, বহুজাতিক, বহুভাষিক ভারতবর্ষকে ইওরোপীয় কায়দায় একটি জাতি বয়ানের ফ্রেমে আবদ্ধ করা৷ আর বৃটিশের হয়ে এই কাজটিই করেছে নবজাগরণীয় বর্ণহিন্দু কলকাত্তাইয়া সুশীল সমাজ৷ তাই বাঙালি জাতীয়তা আধুনিক রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্দরে বিলীন হয়ে গিয়েছে ক্রমেই৷ পাশাপাশি ভারতীয় ভূখণ্ডের ভিতীকার বাঙালি জাতিসত্তার সঙ্গে বঙ্গের অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক জাতিসত্তাগুলির মধ্যে তৈরি হয়েছে দূরত্ব। পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বাম শাসনও প্রবলভাবে এই সুশীল ও উপনিবেশমন্য ভদ্রলোকবৃত্তের বাইরে ছিল না৷ তারা মুখে শ্রেণি রাজনীতির কথা বললে আদতে হয়ে উঠেছিল মধ্যবিত্ত বাবু বাঙালির প্রতিনিধি৷ পশ্চিমবঙ্গের নিম্নবর্গের মানুষের দিকে তারা ফিরেও তাকায়নি৷ আর এর সুযোগই নিচ্ছে বিজেপি। ভদ্রলোক সুশীলদের ব্যাপারে নমশূদ্র মতুয়া এবং আদিবাসীদের বিশ্বাসহীনতার সুযোগ নিয়ে বিজেপি হিন্দুত্বের প্রসারিত ছাতার তলায় তাদের নিয়ে এসেছে এবং ইসলামবিদ্বেষী ও জেনোফোবিয়া হিন্দুত্বের যন্তরমন্তর ঘরে ঘটিয়েছে মগজ ধোলাই৷ অথচ এই নমশূদ্র ও আদিবাসীরা সুদীর্ঘকাল ব্রাহ্মণ্যবাদের দ্বারা নিপীড়িত৷ আর সেই ব্রাহ্মণ্যবাদী আরএসএস-বিজেপিরই ভোটবাক্সে পরিণত হয়েছে এই সামাজিক বর্গ৷ অথচ কথা ছিল, বাংলার নমশূদ্র, বাঙালি মুসলিম ও আদিবাসীদের একটি ফ্রন্টের অংশিদার করে ব্রাহ্মণ্যবাদী বা মনুবাদীদের চিরকাল বাংলা থেকে দূরে রাখা। বাংলার ভূমি স্পর্শ করতে না দেওয়ার৷ সেটা হয়নি সংসদীয় ভুয়া বামেদের তলায় তলায় উপনিবেশবাদী, হিন্দুত্বমনস্ক, নিম্নবর্গবিরোধী ও ইসলামবিদ্বেষী অবস্থানের কারণেই। দ্বিতীয়ত, এই প্যান ইন্ডিয়ান বামেরা ভাষাপ্রশ্নকে সৃংস্কৃতিক সুপার স্ট্রাকচার ও অর্থনীতিকে শ্রেণিপ্রশ্নের ভিত্তি হিসাবেই দেখেছে৷ যার জেরে ভাষিক জাতিসত্তার গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের লড়াউকে তারা প্রাদসশিকতা বলে হিন্দুত্ববাদীদের কায়দাতেই দূরে ঠেলেছে৷ অথচ এরা বোঝেনি যে বঙ্গে ভাষা, জাতিসত্তা ও বর্ণের মতো বিষয়গুলিই শ্রেণি নির্ধারণের প্রেক্ষিত৷ শ্রেণিচিহ্নিতকরম প্রক্রিয়ায় আমাদের বাস্তবতায় এগুলিকে বাদ দেওয়া মহামূর্খামি৷। এরা এতটাই বাংলাবিমুখ ও প্যান ইন্ডিয়ান যে ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখব, ১৯৪৬ সালে যখন শরৎচন্দ্র বসু, আবুল হাশিম, কিরণশঙ্কর রায় ও হোসেইন শহিদ সোহরাওয়ার্দীরা ভারত-পাকিস্তানের সমান্তরালে স্বাধীন ও সমাজতান্ত্রিক যুক্তবঙ্গ দেশের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন বাংলার আইনসভায় তখন সংসদীয় বামেরা ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত ছিল, যার জেরে এই প্রস্তাব হেরে যায়৷

আসলেই বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতিসত্তা পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় হুমকির মুখে৷ এই হুমকির সামনে বড় কোনো প্রতিরোধও নেই৷ তাই বাংলাভাষা যে কেবলমাত্র স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশেই সুরক্ষিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ যতই রাজনীতিতে রাজাকার-আলবদর বাহিনীর উত্তরসূরীদের আবির্ভাব ঘটে যাক না কেন, শূদ্র-মজলুম-অনার্য ভূমি বঙ্গদেশের সহাবস্থান-মৈত্রী ও প্রতিরোধের বাস্তবতা বাংলাদেশে রয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গকে এখন ভাবতে হবে যে সে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও স্থানীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করবে নাকি মনুবাদী-ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি ফ্যাসিস্টদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে৷ মাতৃভাষার প্রতি দরদ থাকলে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন৷ মনে রাখুন, আপনার ভূমি সাংখ্যের, চৈতন্য-নিতানন্দের, লালনের, অলি-আউলিয়াদের৷ এখানে শঙ্করাচার্যীয় বিভ্রমবাদী ও মনুবাদীদের ঠাঁই নেই। ভাষার কসম নিন৷ মনে করুন কবি আবদুল হাকিমের সেই পংক্তি, “”যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবানী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি”।

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top