প্রতিপক্ষ



'ফাহরেনহাইট ৯/১১': সন্ত্রাস, বাণিজ্য ও কর্পোরেশান

মাইকেল মুরের ‘ফাহরেনহাইট নাইন ইলেভেন’ ছবির শুরুতে টুইন টাউয়ারে দ্বিতীয় প্লেনটা যখন আঘাত হানে, তখন ফ্লোরিডার একটা স্কুলে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে তার নিরাপত্তা বাহিনীর একজন লোক এসে, ‘নেশন ইজ আন্ডার অ্যাটেক’ বলে খবরটা দিলে, বুশ সাত মিনিট চুপচাপ বসে যে ভাবনাগুলো ভেবেছিলেন, সেই ভাবনার ভেতরেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের বীজ রোপিত হয়ে গিয়েছিল। সারা ছবির এই সাত মিনিট আমরা বলবো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সাত মিনিটে একবিংশ শতাব্দীর দুর্বিসহ ভবিষ্যৎ ইতিহাস রচিত হয়ে গিয়েছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম উপন্যাসের মতো প্রেসিডেন্ট বুশ এই সাত মিনিটে ভবিষ্যত পৃথিবী রচনা করে ফেলেন। কী অসাধারণ তার দক্ষতা ! তবে আমামদের বোঝাবুঝির সবটা কৃতি (আরো পড়ুন)

‘জিরো ডার্ক থার্টি’: অর্ধ-সত্য কিম্বা মার্কিন প্রপাগাণ্ডা সিনেমা

‘জিরো ডার্ক থার্টি’ ছবির প্রথম দিকে নির্যাতন সেলে সি.আই.এ.-এর একজন সদস্য ড্যান আল কায়দা বাহিনীর একজন কয়েদী আম্মারকে একটা সন্ত্রাসী আক্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলো, উত্তরে ‘রবিবার’ ছাড়া ড্যান কোন উত্তর পেলো না। তখন ড্যান তাকে বলে, ‘তুমি কি জানো আংশিক বা অসম্পূর্ণ উত্তর, মিথ্যা হিসেবে ধরা হয় ?’ তারপরেই আম্মারকে আরও কঠিন শাস্তি হিসেবে ছোট একটা বাক্সে ভরে রাখা হয়। যেখানে কোন রকম নড়াচড়া করা যায়না।

কোন প্রশ্নের আংশিক উত্তরের অর্থ একটি মিথ্যের সমান। এই যদি যুক্তি হয় তাহলে আমরা কি বলতে পারিনা যে, একটি ঐতিহাসিক ছবি নির্মাণের সময় যদি সেই ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর কিছু সত্য শুধু প্রকাশিত হয় আর কিছু সত্য থাকে অপ্রকাশিত, তখন (আরো পড়ুন)

দ্বিধান্বিত মৌলবাদীর গল্প: ‘দ্য রিলাকট্যান্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট’

The Reluctant Fundamentalist যদি গত শতাব্দীর ষাটের দশকে বা তারও আগে উপন্যাস আকারে লিখিত অথবা চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মিত হতো তাহলে ছবির নামটা হয়তো হতো The Reluctant Communist । কারণ সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্যে সাম্রজ্যবাদী দেশের কোনো না কোনো শত্রুর প্রয়োজন পড়ে। গত শতাব্দীতে যে শত্রুর নাম ছিলো ‘কমিউনিস্ট’ বা ‘সাম্যবাদী’ এই শতাব্দীতে সেই শত্রুর নাম হয়েছে ‘ফানডামেন্টালিস্ট’ বা ‘মৌলবাদী’। ইতিহাসের দিক থেকে মৌলবাদী অন্দোলনের উত্থান ঘটে প্রধানত ডারউইনের মতবাদকে কেন্দ্র করে। “Fundamentalist” শব্দটি প্রথম সম্ভবত ব্যবহৃত হয় ১৯২০ সালে ব্যাপটিস্ট ওয়াচম্যান একজামিনার পত্রিকায়। ১৯২০ সালে যাজক জন রোয়াচ স্ট (আরো পড়ুন)