প্রতিপক্ষ



জলপান শব্দের শিকারি: আল মাহমুদ

এক

আল মাহমুদ পরিণত বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। তবুও পরিচিত বা প্রিয় কারো মৃত্যু আমাদের ব্যথিত করে। আল মাহমুদ ব্যতিক্রম নন। বহু বছর আগে, যখন তিনি অসুস্থ নন, তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। কলকাতা থেকে ফিরছিলাম। কলকাতা এয়ারপোর্টে তাঁর সঙ্গে দেখা। কবিদের বিস্তর কথা জমা থাকে যা কেবল কবিদের পরস্পরের সঙ্গেই উজাড় হয়। তাই হোল।

ঢাকায় উড়োজাহাজ নাক নীচু করে যখন নামছিলো, তখন হঠাৎ আমাকে বললেন, ‘এই শহরে ফরহাদ মজহারও বাস করেন’। একটু অপ্রস্তুত হয়েছিলাম। সামলে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন বললেন? তাঁর উত্তর ছিল, কবিদের ভিড় ও মঞ্চ থেকে আমি সারাজীবন দূরে থেকেছি, কিন্তু কবি ও কবিতা নিয়ে তর্কবিতর্কে আমি ঠিক (আরো পড়ুন)

'বই বিক্রির দোকানদারি বাংলা একাডেমির কাজ নয়'

কেমন আছেন? বছর শেষে আবার শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা, জাতীয় জীবনে এই মেলার তাৎপর্য কী বলে?

জাতি হিসাবে আমরা কোন ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি নই, ফলে অমর একুশে বই মেলাও বিভক্ত, বিভাজিত ও নানা ভাবে খণ্ডিত রূপ নিয়ে হাজির হয়। তার তাৎপর্যও সেই প্রকার খণ্ডিত ও বিভাজিত মর্মের কথাই বলে। এটা এখনও একান্তই বাঙালী জাতীয়তাবাদীদের অনুষ্ঠান হয়ে রয়েছে। সবার, সাধারণ মানুষের নয়।

আধুনিক বাংলা সাহিত্য যাদের হাতে তৈরি ও বিকশিত হয়েছিল তারা প্রধানত উচ্চ বর্ণের হিন্দু । তারা ইংরেজের তাঁবেদারি করে পৃষ্ঠপোষকতাও পেয়েছে। এটা ব্রাহ্মণ বা হিন্দুর কোন দোষ কিম্বা গুণের বিচার নয়। এটা ইতিহাস। কিন্তু একালে এর আপদের দিক হচ্ছে উচ্চ বর্ণের হিন্দুর সাহিত্য ও সংস্কৃতির দ্বারা প্ (আরো পড়ুন)

কবি ফরহাদ মজহারের মোকাবেলা

বলতে বলতে প্রায় পাঁচ বছর বেরিয়ে গেল, তরুণ কবি শিমুল সালাহ্উদ্দিন এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন। একটি সাহিত্য পত্রিকায় আংশিক বেরিয়েছিল। এখন পুরোটা শিমুল সালাহ্উদ্দিনের অনুমতি নিয়ে এখানে ছাপা হোল। ওপরের ভুমিকাটুকু শিমুল সালাহ্উদ্দিনের। আশা করি চিন্তার পাঠকদের ভাল লাগবে। [সম্পাদনা পরিষদ]

... ... ...

কবি ফরহাদ মজহার তাঁর চিন্তা ও কর্মের ভেতর দিয়ে ইতোমধ্যে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন। ১৯৪৭ সালে নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এ চিন্তকের যেমন আছে অনুসারীদল তেমনি আছে কট্টর নিন্দুকসমাজ। জীবনযাপন, কাজ, কাব্য, সঙ্গীত, নাটক, চিন্তাভাবনা, কৃষি, শিল্প, প্রকৃতি, ভাবান্দোলন, রাজনীতি সব মিলিয়েই তাঁর পক্ষে-বিপক্ষেও তর্ক, যুক্তি, ভর্ৎসনা চলে চা-খানায় ও অন্তর্জালে। নিজের সব (আরো পড়ুন)

আহমদ ছফার সাক্ষাৎকার

'স্বাধীন দেশের নাগরিক হিশেবে কোলকাতা আর আমাদের কিছু দিতে পারবে না'

প্রশ্ন: ১৯৪৭-এর পর পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১-এর বাংলাদেশ এই পর্ব দুটি আপনার চিন্তার জগতকে কিভাবে প্রভাবিত করেছে?

আহমদ ছফা: পাকিস্তান যখন হয় তখন আমি শিশু। পরবর্তী সময়েও পাকিস্তান আমার মনের ওপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। বাহান্নর একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমি ক্লাস থ্রি বা ফোরের ছাত্র ছিলাম। সে সময় বাংলা ভাষার দাবিতে আমিও মিছিলে গেছি এবং আমার এক ভাই একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনে মুসলিম লিগারদের হাতে মার খায়। তার থেকেই পাকিস্তানের কোনও প্রভাব আমার মনে কখনো কাজ করে নি। বরং আমার আকর্ষণ ছিল কোলকাতার প্রতি। ওখানকার পত্রপত্রিকা ও সাহিত্যের প্রতি আমার ছিল প্রবল টান। ‘নবজাতক’ নামে (আরো পড়ুন)

আহমদ ছফা এবং ব্যাক্তির মুক্তিতত্ত্ব

‘সকলে আমার মধ্যে আছে, আমি সকলের মধ্যে আছি।’ আহমদ ছফা

ব্যক্তির নাম, রাজনীতি এবং ইতিহাস নিয়ে আমি এখানে লিখব। আহমদ ছফার ওপর নয়। কিন্তু তার নাম আসবে। তাকে নজির হিশাবে নেবো। ছফা বেঁচে থাকলে তাকে নজির হিশাবে ব্যবহার করছি দেখলে সে বিলকুল খেপত। খিস্তিখেউড়ের অভ্যাস ছিল তার। কী বলত তার এক ঘণ্টার একটা ফিরিস্তি আমি এখনই দিতে পারি। তার ঘনিষ্ঠজনরা একা থাকলে এই আনন্দটি সে পুরোমাত্রায় উপভোগ করত। তবে সত্যি যে তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের ধোপদুরস্ত করে দেবার চর্চা করে সে নিজেকে প্রকট প্রতিকূলতার মধ্যে প্রকৃতিস্থ রাখার চেষ্টা করত। আগে কার সামনে কী বলত খুব একটা বাছবিচার করত না। কিন্তু এক সময় সে নিজেই বুঝত তুমুল অট্টহাসি ও অবিনাশী মশকরায় ছাদ ফাটিয়ে দেবার (আরো পড়ুন)

সৈয়দ মর্তুজার ভাষাদর্শন

‘পরান পিরীতিখানি ভাবিলে নবীন’ 

মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে বিভিন্ন শাখার পদাবলী সাধারণতঃ ধর্ম সম্পৃক্ত রচনা বলেই মনে করা হয়। মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও ডক্টর আহমদ শরীফ তাঁদের সম্পাদিত ‘‘মধ্যযুগের বাঙলা গীতিকবিতা” গ্রন্থের ক নম্বর পৃষ্ঠায় বলেন ‘‘এগুলো ধর্মমতবাদীর একাধারে সাধন সঙ্গীত, বোদন গীতি, ও ভজন”। আর ধর্ম তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিতদের কাছে পশ্চাদপদতার প্রতীক বিধায় পরিত্যাজ্য। একারণেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য আমাদের কাছে মধ্যযুগীয়(?) বলে অবহেলিত। এই অবহেলার মনোভাব সৃষ্টিতে কায়েমি পণ্ডিত সমাজ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তাদের কারো কারো মতে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত অষ্টাদশ শতকে এই অঞ্চলে ইংরেজদ (আরো পড়ুন)

বেহুলার ভাসান ও মনসামঙ্গল

মনসা মঙ্গলে বাংলার ভাবের হদিস

বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে মনসা-মঙ্গল কাব্যের নানা আনুষ্ঠানিকতা প্রচলিত আছে। এগুলো বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোক নাটকের সম্পদ। এদের আছে আলাদা পরিবেশন রীতি, আলাদা আঙ্গিক। যাতে গ্রামীণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা আর জীবনের ভাবচিন্তা পরিস্কার বুঝা যায়। এই আয়োজন তাদের বেঁচে থাকার। এতে নিস্ফল তত্ত্ব আর বাহাস করার কোন সুযোগ বা প্রবণতা নাই।

বিভিন্ন অঞ্চলে মনসা-মঙ্গল

মনসা-মঙ্গল কাব্য মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অনন্য কীর্তি। হরিদাস, বিজয়গুপ্ত, নারায়ণ দাস, কেতকা দাস ও ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসা-মঙ্গল রচনা করেছেন। সাধারণত রাত জেগে মনসা-মঙ্গলের নাটক পরিবেশন করা হয়। রংপুর অঞ্চলে বিষহরির গান, রাজশাহী-নাটোর অঞ্চলে পদ্মাপুরাণ গান, কুষ্টি (আরো পড়ুন)

গঙ্গা-পদ্মা-পদ্মাবতী

বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ হিসেবে জানলেও নদীর গুরুত্ব আমরা আলাদা করে উপলব্ধি করি না। অনেকটা বাতাসের মধ্যে থেকেও বাতাসের অস্তিত্ব সম্পর্কে অসচেতন থাকার মতই। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজারেরও বেশি নদী বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে অনেকটা বাতাসের মত। প্রাণ প্রকৃতি রক্ষার দিক থেকে তো বটেই অর্থনৈতিক দিক থেকেও এসব নদীর গুরুত্ব ব্যাপক। কিছু পরিসংখ্যানের সাহায্যে নদী কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরা যায়। কেবল নদী থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে মৎস্য আহরিত হয় প্রতি হেক্টরে ১৭২ কেজি। সেচ ব্যবস্থাও অনেকাংশে নদীর উপর নির্ভরশীল। শুধু গোদবাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে দুই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করা হয়। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপিতে নদী পরিবহন খ (আরো পড়ুন)

আলোকচিত্রে গার্মেন্ট শ্রমিক

কারখানা কেন বন্দি শিবির?/ জীবন কেন এতটা স্থবির?/ এত কাজ মজুরি পাই না/ বাঁচার মতো মজুরি পাই না/ বদ্ধ, দম বদ্ধ ঘরে/ আমার এ আটক/ মানি না। কফিল আহমেদের লাইন ক’টি নিয়ে পোস্টার করা হয়েছে। এই কথাগুলোরই সাক্ষী যেন তাসলিমা আখতারের তোলা ১৯ টি ছবি।

তাসলিমা বললেন, তিনি একজন রাজনৈতিক কর্মী। তিনি গার্মেন্ট শ্রমিকদের সাথে প্রায় তিনবছর ধরে কাজ করছেন। তাদের কাজের পরিবেশ, জীবনযাত্রা, থাকার পরিবেশ নিয়ে তার এই কাজ। তার এই কাজ যদি তাদের জীবন ও আন্দোলনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে, তাতেই তার কাজের স্বার্থকতা।

ধানমন্ডির দৃক গ্যালারীতে ১৮ জুলাই ২০১০ এ শুরু হওয়া এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর শিরোনাম গার্মেন্টে শ্রমিকের জীবন ও সংগ্রাম [The Life and struggle of garme (আরো পড়ুন)

শাহাদাৎ তৈয়বের আদোনিস অনুবাদ

আদোনিসের নির্বাচিত কবিতা। অনুবাদ: শাহাদাৎ তৈয়ব। প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০১২। প্রকাশক: আদর্শ। প্রচ্ছদ: শিবু কুমার শীল। ২৪০ পৃষ্ঠা। মূল্য: ৩৭৮ টাকা।

তবু প্রশ্ন করি: এ গন্তব্য কি, এই আখের কি- যা চারপাশের নাগাল ছাড়া কিছুই স্পর্শ করে না, মিলিত হয় না কোন কিছুর সাথে? তবে কি গন্তব্য মিলিত হয় যেখানে গন্তব্য নেই? (তাহার নাম, পৃষ্ঠা: ২৮)

তার প্রকৃত নাম আলী আহমদ সাঈদ ইসবার। দুনিয়ার মানুষ তাকে আদোনিস নামে চিনেন। সিরিয়ার জম্মগ্রহনকারী আরবি ভাষার কবি আদোনিস। রাজনৈতিক কারণে হিজরত করেন লেবাননে। বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাসকারী এই কবি সমসাময়িক আরবি কবিতার উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাম্প্রতিক আরবিয় বসন্তে গুঞ্জরিত হয়েছে তার কবিতা। পাঁচবার নোবেল পুরষ্কারের সংক্ষিপ্ (আরো পড়ুন)

ভারতে মাওবাদ : অরুন্ধতী রায়ের চোখে

ইনসাফ আদায়ের লড়াই যখন ইনডিয়ার ‘নিরাপত্তার প্রতি হুমকি’

ভারতে মাওবাদের উত্থান : অরুন্ধতী রায়-এর পর্যবেক্ষণ। সম্পাদনা: আলফাজ আনাম, মেহেদী হাসান। সংবেদ প্রকাশনী। জুন ২০১০। ৮০ পৃষ্ঠা। ১০০ টাকা

ইনডিয়ার সরকার এবং গণমাধ্যমের ভাষায় মাওবাদীরা ‘সন্ত্রাসী’। অবশ্য ইনডিয়ার সরকারি স্বশস্ত্রবাহীনির বিরুদ্ধে যুদ্ধরত মাওবাদীদেরই শুধু না, প্রান্তিক ও গরিব মানুষের ওপর রাষ্ট্রের অন্যায়, জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রতিবাদীকেই ‘সন্ত্রাসী’ বলছে ইনডিয়ার সরকার ও গণমাধ্যম। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চরিত্র আর গণমাধ্যমের চরিত্র একইরকম। ফলে, ইনডিয়া তার সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজে ‘সন্ত্রাস’ (আরো পড়ুন)

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জমানায় ইসলাম

আত্মপরিচয় ও বাঙালিত্বের যুদ্ধ-খায়েশ

১.

জাকির তালুকদার রচিত ‘মুসলমানমঙ্গল’র প্রচার পত্রে লেখক সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি ‘বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে অগ্রগামী চিন্তার কথাসাহিত্যিক’। একইসাথে দাবি করা হয়েছে ‘এই ধরনের উপন্যাস বাংলাভাষায় এটাই প্রথম।

প্রথমে আসা যাক, উপন্যাস প্রসঙ্গে। সমকালীন বাঙালি মুসলমান সমাজ ও মননকে ‘ইসলামের ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের মধ্যে প্রক্ষিপ্ত’ করে এ রচনা প্রয়াসের সাহিত্যমূল্য বা সাহিত্য হিশাবে এর সফলতা ব্যর্থতা বিচারের মানদণ্ড নিয়ে বাগবিস্তারের ইচ্ছা আমার নাই। মোটাদাগে বলা যায়; একটা গল্প বা উপন্যাসের কাঠামোয় কতগুলো চরিত্র, ঘটনা ও পরিপ্রেক্ষিত তার অন্তর্গত সাযু (আরো পড়ুন)

'পুরুষতন্ত্র সমর্থন করে না কুরআন'

এ কালে নারীর প্রশ্ন খুবই সংবেদনশীল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ঘুঁটি হিসাবে ‘নারী’র ব্যবহার এবং পাশ্চাত্য সভ্যতাকে সার্বজনীন সভ্যতা হিসাবে মেনে নেওয়া এবং নারী প্রশ্ন মীমাংসার একমাত্র মানদণ্ড হিসাবে খাড়া করবার বর্ণবাদী তাগিদে দরকারী বিতর্ক ধোঁয়াশা হয়ে রয়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রাক-পুঁজিতান্ত্রিক সমাজে নারীকে ঘরের ঘেরাটোপ থেকে বের করে এনে বাজারে নিয়ে আসার সাধনা। এই সাধনায় পুঁজিতান্ত্রিক বাজার ব্যবস্থার বয়ান যেমন আছে, তেমনি আছে নানান উন্নয়ন তত্ত্ব। বাজারে নারীকে তোলা খুবই জরুরী কারণ পুঁজির দরকার নরম আঙুল ও অসম্ভব সহ্য শক্তি সম্পন্ন সস্তা শ্রম। আরও সুবিধা, তাজ্রিন ফ্যাশানে পুড়িয়ে মারলে, কিম্বা রানা প্লাজায় জ্যা (আরো পড়ুন)

'কই হোল সেই মনের মত মন'

পহেলা কার্তিকে প্রতিবছরের মতো কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াতে ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস পালিত হয়ে গেল। তার তিরোধান ঘটেছে ১২২ বছর আগে, সে কারনে এবার ১২২ তম তিরোধান দিবস। প্রতিবারের মতো হাজার হাজার ভক্ত জড়ো হয়েছিলেন তার প্রতি ভক্তি জানাতে। নবপ্রাণ আখড়াবাড়িতেও সকাল থেকে গোষ্ঠ গান শুরু হয়ে সন্ধ্যায় দৈন্য গান এবং তারপর রাত পর্যন্ত ফকির লালন সাঁইয়ের গান গেয়েছেন এবং তাঁর ভাব ও নিত্যদিনের কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেছেন লালন ভক্তরা। প্রতিবছরেই লালনের কোন একটি গানের কথা ধরে আলোচনার সূত্রপাত করা হয়। সূত্র ধরে নানান বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে প্রবেশ চলে। এখানে সাধারণ মানুষ আসেন নিজের খরচে, কষ্ট করে থাকেন সামান্য কিছু খেয়ে।নবপ্রাণ আখড়াবাড়ীতে যে গানের অনুষ্ঠান হয় তা তাঁরা মন দিয় (আরো পড়ুন)

লালন ও সাম্প্রদায়িকতা

ফকির লালন শাহ কবে কোথায় কার ঘরে কিভাবে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন সেই তথ্য কারোরই জানা নাই। কিন্তু তারপরেও তাঁর তিরোধানের পর থেকে কেউ তাকে হিন্দু আর কেউ তাকে মুসলমান বলে লাঠালাঠি কম করে নি। লালন নিজের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন করে যাবার পরেও কুটিল সাম্প্রদায়িকতা তাকে ক্রমাগত মলিন করে দিতে চেয়েছে বারবার। কখনও না জেনে, কখনও সজ্ঞানে। এর বিরুদ্ধে তাঁর অনুসারী ও অনুরাগীরা বার বার রুখে দাঁড়িয়েছেন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘মনের মানুষ’ নামক আজগবি উপন্যাস ও সেই বানানো কাহিনী নিয়ে গৌতম ঘোষের ছবি পুরানা সাম্প্রদায়িকতাকেই সম্প্রতি আবার উস্কে দিয়েছে। সুনীল নিজেই লিখছেন, তার ‘মনের মানুষ’ উপন্যাসটিকে “লালন ফকিরের প্রকৃত ঐতিহাসিক তথ্যভিত্তিক জীবনকাহিন (আরো পড়ুন)

১. ফকির লালন শাহকে ‘বর্তমান’ করে তোলা

‘বিশুদ্ধ লালন’: এমন কিছু কি আছে?

লালনকে কিভাবে বুঝলে ও চর্চা করলে তিনি এই কালে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন? এই প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কথা পেশ করব। তার আগে বলা দরকার ‘বিশুদ্ধ লালন’ বলে আসলে কিছু নাই। অর্থাৎ লালনের গানের, তত্ত্বের বা চর্চার কোন বিশুদ্ধ বা নির্ভুল ব্যাখ্যার জন্য যদি আপনি পেরেশান হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে স্বস্তি দেবার ক্ষমতা কারো নাই। তার মানে এই নয় যে আপনি আপনার মনমতো একটা ব্যাখ্যা দেবেন। লালনপন্থীদের গুরুপরম্পরা এবং নদিয়ার ভাবচর্চার ঐতিহ্যপরম্পরার মধ্যেই লালনের গান, তত্ত্ব ও চর্চার ব্যাখ্যা ও বোঝাবুঝি সীমিত। এরপর রয়েছে অধিকারীর প্রশ্ন। যিনি ব্যাখ্যা দিচ্ছেন তিনি যদি লালনের ঘরের কেউ না হন তাহলে ব্যাখ্যার অধিক (আরো পড়ুন)

২. ফকির লালন শাহকে ‘বর্তমান’ করে তোলা

ভাবান্দোলন চর্চার অভিমুখ কোনদিকে ফেরালে ও নির্দিষ্ট করলে ফকির লালন শাহ ও নদিয়ার ভাবচর্চাকে বর্তমান করা যায় সেই বিষয়ে দুই একটি প্রস্তাব দেবার জন্যই এই লেখা। এই লেখাটি দুটো কিস্তিতে এখানে পেশ করা হচ্ছে। এই অংশটি পড়বার আগে আগের কিস্তিটি পড়ে আসলে ভাল হয়।

আমরা তিনটি বিষয়ের দিকে নজর ফেরাবার চেষ্টা করব।

এক. মানুষের মধ্যে যে কথা বলে অথচ দেখা দেয় না তাকে বিচার করবার ভাবগত প্রশ্ন;

দুই, নদিয়ার জাতপাত, শ্রেণি ও নারীপুরুষ বেদ বিরোধী আন্দোলন এবং

তিন. পাশ্চাত্য চিন্তার প্রভাবে এবং পাশ্চাত্য চিন্তার পরিমণ্ডলে থেকে আমরা যেভাবে এতোকাল সমাজ পরিবর্তন, ব্যাক্তিগত সম্পত্তি, উৎপাদন সম্পর্ক ইত্যাদি বুঝেছি তাকে পর্যালোচনার কোন নতুন দিক নির্দেশনা (আরো পড়ুন)

লালনকে 'তান্ত্রিক' বানাবার বিপদ

এক: ‘ভাব দিয়ে ভাব নিলে পরে তবেই রাঙা চরণ পায়’

“ফকির লালন সাঁই আপাদমস্তক চর্চায়-চিন্তায় তান্ত্রিক” -- লালন সম্পর্কে আগ্রহী একজনের এই প্রকার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে গিয়েই এই লেখাটি লিখেছি। মন্তব্যটি কোন একজন ব্যাক্তির ধারণা বলে আমি মনে করি না, তাই তার নাম এখানে আর সরাসরি উল্লেখের প্রয়োজন বোধ করছি না। কারণ একে ব্যাক্তির মন্তব্য বা দাবি হিসাবে নয়, বরং লালনে আগ্রহী শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশের প্রবল ধারণা হিসাবে বিবেচনা করাই সঙ্গত। সাধারণ মানুষ লালনপন্থীদের সাধনা নিয়ে কৌতুহলী বটে, তবে ফকিরদের সামগ্রিক জীবন যাপন তারা সরাসরি প্রত্যক্ষ করে বলে তন্ত্র বা গুহ্যবিদ্যা ফকিরদের জানা বোঝার জন্য মুখ্য বিষয় নয়। অন্তত বাংলাদেশে। (আরো পড়ুন)

গৌরপূর্ণিমা ও ফকির লালন সাঁই

 শ্রী গৌরাঙ্গ ফাল্গুনি পূর্ণিমাতে নদিয়ায় নিজের আবির্ভাব ঘটান।  নদিয়ার ভাবের ভাষায় গৌর নদিয়ায় 'অবতরণ' করেন। নিম গাছের তলে সন্তান জন্ম দিয়েছেন বলে জননী শচিদেবী সন্তানের নাম রেখেছিলেন ‘নিমাই’, তাঁর ফর্শা চেহারার জন্য পাড়ার লোক নাম দিয়েছিল ‘গোরা’ (গৌরাঙ্গ), গুরু নাম দিয়েছিলেন কৃষ্ণচৈতন্য, সেখান থেকে চৈতন্য। তিনি নদিয়ার প্রথম ‘ফকির’। নদিয়ার সাধকদের কাছে শ্রীচৈতন্য ‘ফকির’ বলেই প্রসিদ্ধ।

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার ফকির লালন শাহ তাঁর জীবদ্দশায় নদিয়ার ফকিরদের নিয়ে যে বিখ্যাত 'সাধুসঙ্গ' প্রবর্তন করেছিলেন, সেটাও ফাল্গুনি পূর্ণিমাতেই। ফাল্গুনি পূর্ণিমার এই দিনটি নদের নিমাইয়ের আবির্ভাব মূহূর্ত হিশাবে স্মর (আরো পড়ুন)

মনসাপুরাণঃ আনন্দধামে মনসা

শ্রাবণের পঁচিশ তারিখ। ঘড়িতে রাত সাড়ে নয়টা ছুঁই ছুঁই করতে করতে পাঁককোলা আনন্দধামে পৌঁছলাম। এই ধাম হচ্ছে লালন ফকিরের ঘর। এই ঘরের গুরু ফকির লবান শাহ। মাস কয়েক আগে সাঁইজি দেহ রেখেছেন। যথাক্রমে লালন সাঁই, ভোলা শাহ থেকে কোকিল শাহ হয়ে লবান শাহ ছিলেন। এখন গুরুমাই হলেন জ্যোতিধামের আলো। তাঁকে ক্ষণিক দেখলাম। অনুষ্ঠানের আয়োজক বুড়িমা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না। ভেবেছিলাম বয়স্ক কেউ। পরে দেখলাম সদা হাসি খুশি সেবাঅন্ত প্রাণ একজন মানুষ। বয়স একদম কম। তিনি ফরহাদ মজহারের পরমাত্মা বোন। এই বুড়িমাই আয়োজন করেছেন ‘মনসার পুরাণ’।

ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়েছিলাম ভোর ছয়টায়। যাত্রায় এর মাঝে বিরতি দিলাম দুইবার। টাঙ্গাইলের রিদয়পুর এবং ঈশ্বরদীর আরশিনগর নয়াকৃষি বিদ্যাঘর (আরো পড়ুন)

উকিল মুন্সীর চিহ্ন ধরে

এক. চিহ্নের টানে

আমি আগে না জানিয়া সখিরে কইরে পিরীতি আমার দুঃখে দুঃখে জীবন গেলো, সুখ হইলো না এক রতি...।

দিল ঠাণ্ডা করার জন্য অনেকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার শরীফে যান। সেই মাইজভান্ডার শরীফের বার্ষিক ওরছে চট্টগ্রামের দাউদুল ইসলামের সাথে পরিচয় হয় নেত্রকোনার ছৈয়দ মিজানুর রহমানের । দুজনের মধ্যে কথাবার্তা বেশি দূর এগোয় নাই। সেই সামান্য আলাপেই মিজান জানান তার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। গীতিকবি উকিল মুন্সীর বাড়ির কাছাকাছি। মিজান উকিলের বাড়িতে বাড়িতে গিয়েছিলেন ২০১১ সালের বর্ষায়। বাড়ির উঠোনে উকিল মুন্সীর কবর। পাশেই বেতাই নদী। নদীর কূল ভেঙ্গে কবর তলিয়ে যাবার অবস্থায় পৌছেছে। খবরটা দাউদের মনে দাগ কাটে। ঠিক করে উকিলের কবর দে (আরো পড়ুন)

বাংলার ভাবসম্পদঃ মনসা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের একটি গ্রাম পাঁককোলা। মনসাপুরান পদ্মাপুরান চন্ডিমঙ্গল ইত্যাদি আশ্রয় করে বাংলাদেশে ভাবুকতার যে চর্চা তা স্বচক্ষে দেখার জন্য শ্রাবন মাসের ২৫ তারিখ (অগাস্ট মাসের ৯ তারিখে), আমরা পাবনার ঈশ্বরদী থেকে গাড়ীতে করে পাঁককোলা গেলাম । বোন ‘বুড়ি’ ও ভাই শামসুল ফকির – জ্যোতিধামের ফকির লবান শাহের ভক্ত-যুগল এই আয়োজন করেছেন। ‘বুড়ি’ বা সকলের প্রিয় ‘বুড়িমা’ নিজেই উৎসাহ নিয়ে এই আয়োজন করেছেন। বুড়ির বয়স ৩০ - ৩২ বছরের বেশি হবে না। বড়রা স্নেহে বুড়ি বলে ডাকতে ডাকতে তার এই ভারী সুন্দর নামটি চিরস্থায়ী হয়ে গিয়েছে।

তাঁদেরই আমন্ত্রণে ও ফরহাদ মজহারের পরিকল্পনায় আমাদের যাওয়া। পাক্ষিক চিন্তা বাংলার ভাবান্দোলনের ধারা (আরো পড়ুন)

চৈত্রসংক্রান্তি, শিব ও দয়াল চাঁদ

জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের বাংলা নববর্ষ

বাংলা নববর্ষ পালন করার পক্ষে যে যুক্তি সাধারণত দেওয়া হয় সেটা হয় সাহেবদের অথবা মুঘল আমলের জমিদার-মহাজনদের যুক্তি। সাহেবরা ‘নিউ ইয়ার’ পালন করেন। ইংরেজি নববর্ষে তারা সকালে পরস্পরকে বলেন, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’। এর একটা স্মার্ট ধ্বনিগত চমক আছে। চৌকস। অতএব আমাদের চামড়া বাদামি হওয়া সত্ত্বেও আমাদেরও ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বলবার একটা ব্যবস্থা থাকা চাই। সাহেব হবার বাসনায় আমরাও ‘নববর্ষের শুভেচ্ছা’ চালু করলাম। বাংলা নববর্ষের চল হোল।

‘বাংলা নববর্ষ’ নামক আদৌ কি কিছু ছিল? সেটা কেমন ছিল? কারা করত? কোথায় ছিল? আ (আরো পড়ুন)

বাংলা নববর্ষে বাঙালির মূলস্রোত ‘এখন’ কোথায়?

‘বর্ষবরণ এবং ছায়ানট এখন সমার্থক’!!!

দৈনিক পত্রিকার প্রথম পাতায় জনপ্রিয় কথাকার হুমায়ূন আহমেদের একটি লেখার প্রথম লাইন (দেখুন ‘সমকাল’ ৬ এপ্রিল ২০১১)। একই লেখা আরো কয়েকটি পত্রিকায় একই তারিখে ছাপা হয়েছে। পড়ে থতমত হয়ে রইলাম অনেকক্ষণ। লেখাটির শিরোনাম, ‘অদৃশ্য মানুষের বর্ষবরণ’। দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় ‘খবর’ ছাপবার কথা। কিন্তু বর্ষবরণ নিয়ে হুমায়ূনের লেখা, সেটা ‘খবর’ তো বটেই। নাকি বর্ষবরণ এবং ছায়ানট যে এখন সমার্থক সেটাই খবর!

লেখাটি পড়ব কি পড়ব না দোনামনার মধ্যে পড়লাম। প্রথম বাক্যে থমকে গেলেও বেশ কয়েকটি পত্রিকায় লেখাটি ছাপা হয়েছে দেখে ভাবলাম পড়ে রাখা দরকার। জনপ্রিয় লেখক বলে যারা হু (আরো পড়ুন)

অভিনয়: ইতিহাসের নির্মাণকাণ্ডে নাকি নাটকের মঞ্চে?

ঢাকা শহরে বা মফস্বলের আধা-গ্রাম আধা-শহরগুলোতে যাঁরা গানবাদ্য থিয়েটার নাটক পদ্য আবৃত্তি করেন আমি তাঁদের খুব নিকট থেকে দেখতে ভালবাসি, পর্যবেক্ষণ করি; কিন্তু কাছে ঘেঁষতে ভরসা পাই না। সংস্কৃতির প্রতি এদের আগ্রহ এবং উদ্দীপনার শেষ নাই। এরা পকেটের টাকা খরচ করে নাটক করেন, কবিতা পাঠের চর্চার জন্যে স্বরসাধনের দারুণ পরিশ্রম করেন। নাটকে এঁদের বৃন্দ আবৃত্তি যখন প্রথম শুনি তখন ভয়ানক ভড়কে গিয়েছিলাম। এই যদি কবিতার দশা হয় তাহলে আদৌ কবিতা লিখা ভাল কাজ কিনা সে ব্যাপারে দীর্ঘদিন মনে ধন্দ ছিল। তবুও তাঁদের সমবায়িক মেহনতকে খাটো করে দেখার উপায় নাই। নাটকের রিহার্সাল করার জন্য এরা যে পরিমাণ শারিরীক প্ররিশ্রম করেন, মাসের পর মাস -- বোধহয় বাংলাদেশের মিলিটারি এতো দৈহিক প্ররিশ্রম (আরো পড়ুন)

'প্রতিপক্ষ' ও সাহিত্য

এক

সম্প্রতি ‘প্রতিপক্ষ’ টাঙ্গাইলে রিদয়পুর বিদ্যাঘরে ‘রিদয়পুর সাহিত্য আড্ডা’র আয়োজন করে। আড্ডাটি খুবই সাড়া ফেলে। তখনই প্রতিপক্ষের আয়োজনে একটি সাহিত্য সম্মেলন করা যায় কিনা সে কথা ওঠে। তখন রিদয়পুরে প্রতিপক্ষের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাহিত্য আড্ডারই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষের আয়োজনে ঢাকা সাহিত্য সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এটা কোন জাতীয় সম্মেলন নয়। রিদয়পুর আড্ডারই ধারাবাহিকতা। যারা রিদয়পুরে যান নি বা ঢাকার বাইরে যাওয়া যাদের জন্য কঠিন, তাদের নিয়ে রিদয়পুরের মতোই আরও বড় পরিসরে একত্র হওয়া। ইতোমধ্যে আরো দুই একটি সংগঠন বা উদ্যোগ সাহিত্য সম্মেলন করেছেন বা করছেন। খুবই ভাল কাজ। ত (আরো পড়ুন)

আদোনিস ও আপন জগত নির্মাণ

কবি, সমালোচক, নাট্যকার ও অনুবাদক আদোনীসের জন্ম ১৯৩০ সালে সিরিয়ায়। মূল নাম আলী আহমদ সাঈদ হলেও তিনি আদোনীস নামেই খ্যাত। শিক্ষকতা করেন লেবাননের বৈরুত বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আধুনিক ও সমসাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে আরব সংস্কৃতির নাড়ির শক্তি জাগিয়ে তুলতে তাঁর পাঠ ও বিশ্লেষণ আপোষহীন। বিজ্ঞান, রাজনীতি ও সংস্কৃতির আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে কবিতার যে পশ্চিমমুখি পরনির্ভরতা সেখান থেকে কবিতাকে আরব প্রকৃতির ভেতরে নিগূঢ়ভাবে যুক্ত করার দুঃসাহসিক কাজ করলেন তিনি। শুধু একা নয় সংগঠিত প্রক্রিয়ায় ঔপনিবেশিক আধুনিক সাহিত্যের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে রীতিমতো আন্দোলন গড়ে তুললেন। পঞ্চাশ এবং ষাটের দশক জুড়ে মুখর হয়ে ওঠে তাঁর এ আন্দোলন। তাঁর সাথে ছিলেন কবি মুহাম্মদ আল মাগুত, ইউসুফ আল খাল সহ আরো অন (আরো পড়ুন)